প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত জানে না, ব্রিকসে তারেক রহমান বা তাঁর প্রতিনিধি আসছেন কি না।বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কে করবে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে, এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, অথবা তিনি না গেলে তাঁর পরিবর্তে অন্য কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না—এ সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।ভারত, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।ভারত সরকার ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়ার পরই জানানো হয়েছিল। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আসরে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। ভারতে অবস্থানকালে তাঁর ‘নিরন্তর রাজনৈতিক প্রচারণা’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে অনিশ্চিত করে তোলে।
এ কারণে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। রণধীর জয়সওয়ালের জবাব থেকে এখনো পরিষ্কার নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না এলে তাঁর দেশের প্রতিনিধিত্ব অন্য কেউ করবেন কি না।
শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও সরকারবিরোধী প্রচারণা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ক্ষুব্ধ হয়। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে তারেক রহমানের ভারত সফরে না আসার সিদ্ধান্ত ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
৫ আগস্টের পর সম্প্রতি এফসিসিতে অন্য একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দিল্লি পুলিশ দেয়নি। সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক ব্যক্তির যোগদানের কথা ছিল।
সম্প্রতি হাসিনা বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে নতুন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ভারত সরকার আজ কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এ–সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে সরকারের তরফে কিছু বলার নেই।
হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, সাক্ষাৎকারের টাইমিংটা বেশ ইন্টারেস্টিং। এ নিয়ে ভারত সরকারের কিছু বলার আছে কি? ওই প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
অন্য এক সাংবাদিক বলেন, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো বোঝাপড়া হয়নি। সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে কোনো আলোচনাও হচ্ছে না। দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। বলেছেন, তিনি চান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হোক। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জয়সওয়াল ওই প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ বিষয়েও তাঁর কিছু জানা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন