প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘হায়রে পুত, হায়রে পুত’—কফিনের পাশে বাবার আহাজারি জামশেদুল ইসলাম আলাউদ্দিনের প্রবাসের কর্মজীবন শেষ করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। মায়ের এবং বোনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নতুন বর হিসেবে সাজবেন, বরযাত্রী নিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করবেন—এমন স্বপ্ন দেখছিল তার পরিবার। ছয় বোনের একমাত্র ভাই, পরিবারের একমাত্র ছেলে এবং উপার্জনের অন্যতম ভরসা জামশেদুলকে ঘিরে বাড়িতে ছিল আনন্দের অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষার সমাপ্তি হলো কফিনে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৫ বছর বয়সী জামশেদুলের মরদেহ এসে পৌঁছায়।
পরে জুমার নামাজের সময় তার মরদেহ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিন বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
কফিনের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন বাবা মো. নুরুল ইসলাম। তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।
তিনি কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছিলেন। বুকচাপড়ে বিলাপ করে বলছিলেন, ‘হায়রে পুত, হায়রে পুত।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, জামশেদুল প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবা-মা ও বোনদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আদরের।
সংসারের আর্থিক দায়িত্বও অনেকটা তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
এবার দেশে ফিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তার। ছয় বোনের একমাত্র ভাইকে নতুন বর হিসেবে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু আনন্দের সেই দিন আর এলো না। তিনি দেশে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।
গত ১৬ আগস্ট আবুধাবির মুসাফফা এলাকা থেকে আল আইন এলাকায় নির্মাণকাজে যান জামশেদুল। সেখানে একটি ভবনে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৯ আগস্ট বিকেলে চিকিৎসক জামশেদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। শুক্রবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। তবে যে ছেলেকে জীবিত ফিরে আসার আশায় পরিবার দিন গুনছিল, তাকে ফিরতে হলো নিথর হয়ে।
জামশেদুলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে একে একে জড়ো হন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ছয় বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তেই আনন্দের অপেক্ষায় থাকা বাড়িটি পরিণত হয় শোকের বাড়িতে।
নিহতের বোনের স্বামী ওসমান জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে জামশেদুলের মরদেহ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন