প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মো. বাহার নামে এক প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বর্তমানে সাত মাস বয়সি তার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে, কিন্তু অভিযুক্ত বাহার মা-ছেলের জন্য কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করছেন না।
অভিযুক্ত মো. বাহার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বাহার তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুবাই নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না করেও দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ এক বন্ধুকে দেখতে বাহার তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। দেশে ফেরার পর বাহার তাকে তার বাগেরহাটের বাড়িতে পাঠিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন।
ভুক্তভোগী জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে তার সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে সন্তানের অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসার ব্যয় বহনে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মা ও সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাহার ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভের আরেকটি সন্তান নষ্ট করে দেন।
ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ৪ লাখ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, "আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি। আমি ন্যায়বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।"
ভুক্তভোগী জানান, বাহার লোক মারফত তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সন্তানের দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। এ বিষয়ে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কিনা- প্রশ্ন করলে তা অস্বীকার করেন ওই নারী।
এদিকে, বাহারের প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের কারণে তার সংসারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী বর্তমানে সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন