প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন তাঁর দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার সময় তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, "গতকাল কয়েকটি অনলাইন মিডিয়া পোর্টালে আমার উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সংবাদ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উপর্যুক্ত সংবাদের মিডিয়া ফ্রেমিং নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ফলে আমার যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি বলে মনে করি।"
চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইন অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশে কিংবা বিদেশে যে কোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পেয়ে থাকেন।
বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যদি কোনো মন্ত্রী বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান, তবে প্রথমে দেশের একটি উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের চিকিৎসকেরা যদি প্রত্যয়ন করেন যে সংশ্লিষ্ট রোগের প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত চিকিৎসা দেশের মধ্যে সম্ভব নয়, তবে কেবল তখনই বিদেশে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। চিকিৎসার জন্য সরকারের প্রধানের অনুমোদনও প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা জটিল হৃদরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা জন্য আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের বোর্ড আমাকে জানিয়েছে যে, ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটি জটিল অপারেশন করা আবশ্যক। কিন্তু এই অপারেশন করার মতো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দেশে নেই। এই কারণে আবুধাবির একটি মার্কিন হাসপাতাল বা থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংক্রামক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আমি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখানে আমাকে আবারও এনজিওগ্রাম করাতে হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, "অপারেশন না করালে রক্ত জমাট বেঁধে ব্রেইন স্ট্রোকসহ হার্টফেল করার আশঙ্কা রয়েছে।"
এদিকে, পবিত্র হজের সময়ও নিকটবর্তী ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হজের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আমি দেশে ফিরে আসি। তখন পর্যন্ত আমার চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। এর সব কিছুর রসিদ ও ভাউচার আমি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।
পবিত্র হজের দায়িত্ব পালনের পর আবারও অসুস্থতা অনুভব করলে আমি দেশের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হই। ডাক্তাররা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। জানুয়ারি মাসে আমার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার বিল হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কেবল হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করা হয়। যদিও বিল আরও বেশি আসে, তবে থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ডিস্কাউন্ট পাওয়া যায়।
অবশ্যই, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার হোটেলের বিল, খাওয়ার বিল এবং যাতায়াত খরচ সবই আমি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সকল ব্যয়ের প্রকৃত বিল, ভাউচার, রসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে এবং যে কেউ চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।
আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করার ব্যাপারে আমি কখনোই নিজেদের বিরত রেখেছি। আইন অনুযায়ী, যতটুকু প্রাপ্য, তাও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি। তবে কিছু মিডিয়া বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যাতে জনমানসে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। আমি এসব সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আল্লাহ তা’আলা সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন