প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার।
তিনি বলেন, জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন “জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প” দেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ইয়ার্ডের সক্ষমতা মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়, আধুনিক নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই ও সনদ প্রদান করা, এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে একটি একক সেবা অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। জাইকার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিল্পখাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।”
বৈঠকে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন