প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবর সামনে আসার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। পাঁচ মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে হরমুজ প্রণালী আবার চালু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে এখন ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, একই সময় মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বুধবার ব্রেন্টের দাম সামান্য বেড়ে গেলেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কিছুটা কমেছিল।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির সইয়ের সময় যেভাবে তেলের দাম ছিল, এখন আবার সেখানেই ফিরে এসেছে। প্রশ্ন এখন হলো, দুই দেশ শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই বিনিয়োগকারীদের মূল নজরে আছে।
রয়টার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং দুইজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসা জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকবে। বিষয়টি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধরনের ছাড়গুলোর অন্যতম বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর একটি চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না।
এদিকে, পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে এর জবাবে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এর মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বুধবার দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দর নগরী ইয়ানবুর কাছে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে আরেকটি সৌদি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউকি তাকাশিমা বলেন, হুথিদের হামলার ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়ে গেছে। শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের গতি কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে এবং আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মজুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইআইএ জানিয়েছে, ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৫ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ওই সপ্তাহে মজুত ১৫ লাখ ব্যারেল কমবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন