প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে শান প্রদেশের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। জেড পাথরের খনিতে ব্যবহারের জন্য স্টোরে রাখা জেলিগনাইট বিস্ফোরকটি দুর্ঘটনাবশত ফেটে যাওয়ার কারণে এই বিপর্যয় ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুটি গ্রামের প্রায় ৩০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন।
শান প্রদেশের নামখাম জেলার কাউং তাত গ্রামে ঘটে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ। বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি টিএনএলএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় মাঝরাতের আকস্মিক বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। এই ঘটনার জেরে চীনের নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কাউং তাত গ্রামের আনুমানিক ২০০ এবং পার্শ্ববর্তী পান লোন গ্রামের ১০০ বাড়িঘর একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
প্রথমে এটিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা হিসেবে ধরা হলেও, পরবর্তীতে আসল কারণ জানা যায়। টিএনএলএ এক বিবৃতিতে জানায় যে, খনির কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গুদামে রাখা জেলিগনাইট বিস্ফোরকটি দুর্ঘটনাবশত ফেটে যাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
দুর্গত এলাকায় পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে টিএনএলএ’র উদ্ধারকারী দল। দুই গ্রাম থেকে এ পর্যন্ত ৭৪ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, কীভাবে এই জেলিগনাইট বিস্ফোরণ ঘটল, তা তদন্ত করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গোষ্ঠীটি।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের পরে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে জেড পাথরের খনি সমৃদ্ধ শান প্রদেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী টিএনএলএ। জান্তা সরকারকে তটস্থ রাখতে এই গোষ্ঠীর খনি অঞ্চলের একটি দুর্ঘটনা এখন পুরো জনপদকে পরিণত করেছে এক মৃত্যুপুরীতে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন