প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাতজন প্রার্থী প্রত্যেকে অন্তত একজন স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন। এটি কার্যত ভেটোর সমতুল্য বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার, একজন কূটনীতিক সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটের এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘ থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা এই খবরটি জানিয়েছে।
শুক্রবারের ভোটে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেটো বোঝাতে রঙিন কাঠি ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্য আগের মতো সাধারণ কাঠি ব্যবহার করেছেন। এই ভোটে সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হয়।
কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান আগের পাঁচ দফা ভোটেও শীর্ষে ছিলেন। এবারও তিনি সবচেয়ে বেশি ‘সমর্থন’ ভোট অর্জন করেছেন। তবে তিনি পাঁচটি ‘অনুৎসাহিত’ ভোটও পেয়েছেন, যার মধ্যে দুটি স্থায়ী সদস্যদের কাছ থেকে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থীর কাউকেই সমর্থন করছে না ওয়াশিংটন।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এ প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে আসছি, আমাদের শুধু সেরা প্রার্থীটিকেই প্রয়োজন।’
নতুন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, ‘কোনো দেশ যদি আরও প্রার্থী দিতে চায়, তবে তা অবশ্যই তাদের সার্বভৌম অধিকার।’
কূটনীতিকদের মতে, সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে গাজার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তুরস্কের ফেরিদুন হাদি সিনিরলিওগলুর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনি ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মহাসচিব।
অনানুষ্ঠানিক ভোটের প্রথম পাঁচ দফায় গড় হিসেবে সবচেয়ে ভালো ফল করেছিলেন গ্রিনস্প্যান। শুক্রবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, যদিও তিনি দু’টি ভেটো পেয়েছেন।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার বর্তমান প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।
বিদায়ী মহাসচিব পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় নয়টি ভোট পেলেও, কোনো প্রার্থীকে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো এড়াতে হবে। এই পাঁচ শক্তিধর দেশের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য বিদ্যমান।
যদি কোনো প্রার্থী এই দুই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন, তবে তাঁর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।
দুই প্রার্থীর নামেই ভেটো পড়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদের এই ধরনের ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয়।
প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়—এমন সমালোচনা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে এই অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি চালু রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যকে প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে গোপন ব্যালটে তিনটির মধ্যে একটি মত দিতে হয়—‘সমর্থন’, ‘অনুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’।
জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি পালাক্রমে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রার্থীদের দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই রীতি অনুসারে, এবার পদটি ল্যাটিন আমেরিকার কোনো প্রার্থীর পাওয়ার কথা। এ অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাল ও ওতুনু আফ্রিকার প্রার্থী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন