প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের পথ চলার পর অবশেষে ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ সম্পন্ন করে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। সোমবার তিনি তার জন্মশহর হাল-এ প্রবেশ করেন, যেখানে দীর্ঘ ২৮ বছরের এই রূপকথার অভিযান শেষ হলো।
মধ্য আমেরিকার গভীর জঙ্গল, আলাস্কা ও রাশিয়ার বরফ, এমনকি হিমশীতল ইংলিশ চ্যানেল—সব বাধা তিনি নিজের পায়ের শক্তিতে অতিক্রম করেছেন। একক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ নিজস্ব শারীরিক উদ্যমে তিনি একটি নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।
হাল-এ পৌঁছানোর পর হাজার হাজার মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। আবেগে আপ্লুত বুশবি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘২৮ বছরের এই পথচলা শেষে এর চেয়ে সুন্দর উপহার আর কিছুই হতে পারে না।’
কথা শেষ করে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামান্য কিছু রসদ নিয়ে ট্রলি ঠেলে শৈশবের বাড়ির দিকে অগ্রসর হন। সেখানে তার বৃদ্ধা মা, ছেলে ও নাতনি তার পথ চেয়ে ছিলেন।
ত্রিশ বছর আগে ভাঙা হৃদয় ও সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর মানচিত্রে একটি দাগ কেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। তার বাবা ছিলেন তার অনুপ্রেরণা। মাত্র এক জোড়া পা, একটি তাঁবু, সামান্য কিছু ডলার এবং একটি সস্তা প্লাস্টিকের ক্যামেরা ছিল তার সম্বল। চিলি থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা, আলাস্কা, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন ও ইউরোপ হয়ে অবশেষে তার যাত্রা সম্পন্ন হলো।
তবে এই যাত্রা ছিল গোলাপ বিছানো নয়। মরুভূমির একঘেয়েমি, সুমেরুর হাড়কাঁপানো শীত, পানামায় গ্রেপ্তার হওয়া, মেক্সিকোতে বন্দুকের মুখে জিম্মি হওয়া কিংবা রুশ কর্তৃপক্ষের বন্দিশালায় আটক—এসব অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন। অর্থনৈতিক মন্দা ও কোভিডের বাধাও তার পথে ছিল।
বিবিসিকে বুশবি জানান, ২৮ বছরের মধ্যে তিনি টানা ১৫ বছর হেঁটেছেন। প্রাথমিকভাবে ১২ বছরে বিশ্বভ্রমণ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাড়তি সময় লাগতে হয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বুশবি বলেন, একটি কাজ সম্পন্ন করতে যেমন অনেকের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তেমনি তাকে বাড়ি ফিরতে পুরো পৃথিবীর মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে। যাত্রাপথে অসংখ্য অপরিচিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। তাই এই অর্জনকে নিজের একক কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে তিনি জানান, এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিল বিশাল একটি দল, যার নাম পৃথিবী।
এই অবিশ্বাস্য অভিযান নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। খুব শিগগিরই তিনি নিজের এই মহাকাব্যিক অভিযানের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে স্পিকিং ট্যুরে বের হবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন