প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ বিকল হওয়ার সুযোগে অস্ত্র ছাড়াই মারধর করে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাইয়ের অর্থের অধিকাংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে অবস্থিত মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির জন্য চালক সোহেল রানা ও ম্যানেজার মজনু মিয়া পিকআপ নিয়ে বগুড়ায় যান। সেখানে মালামাল বিক্রি করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন তারা।
পথে চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে নির্জন সড়কে পিকআপটি বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেল রানাকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে। পরে তাদের কাছ থেকে মালামাল বিক্রির পুরো টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ডিবি ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুন্না (২৪) গ্রেপ্তার হন। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাদেবপুরের ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের রবিন (২৫) নামের আরেকজনকে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল।
পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী পিকআপচালক সোহেল রানাকে (২৫) নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্না জড়িত ছিলেন। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিনের ভূমিকা ছিল প্রধান। তাঁরা তিনজন মিলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন