প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) জালিয়াতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে নানা মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংবাদে উঠে আসা অভিযোগগুলো খণ্ডন করে ‘তালাশ বিডি’তে একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাংবাদিকের মাধ্যমে তদবির চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‘তালাশ বিডি’র প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রতিবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে অভিযুক্ত দেলোয়ারের পক্ষ থেকে। তবে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাব নয়—তথ্য, নথি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দেলোয়ারের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাজুলের সঙ্গে তাকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং শেবাচিমের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে দেলোয়ারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, একসময় শেবাচিম হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার সঙ্গে দেলোয়ার জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তার গ্রেপ্তারের ঘটনাও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে হাসপাতালের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের একটি সংগঠন বা কমিটির নেতৃত্বে আসেন এবং এর মাধ্যমে হাসপাতালে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে সাধারণ আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। কর্মচারীদের বকেয়া বেতন আদায়, প্রশাসনিক কাজে ঢাকায় যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
সম্প্রতি ‘তালাশ বিডি’সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে দেলোয়ারকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংবাদগুলোকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে প্রতিবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘তালাশ বিডি’র কাছে প্রতিবাদ পাঠানোর অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রয়েছে। তবে প্রতিবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমটি তথ্য-প্রমাণ ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছে।
কোনো ব্যক্তি বা মহলের তদবির, চাপ কিংবা প্রভাবের কারণে সংবাদ প্রত্যাহার বা যাচাই ছাড়া প্রতিবাদ প্রকাশ করা হবে না—এমন অবস্থানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শেবাচিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, আউটসোর্সিং, রোগী হয়রানি, দালালচক্র কিংবা অর্থ আদায়ের মতো কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যথাযথভাবে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান এবং দেলোয়ারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানতে চেষ্টা করছে ‘তালাশ বিডি’।
তথ্য-প্রমাণ যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
দেলোয়ারকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ, হাসপাতালের আউটসোর্সিং ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে তালাশ বিডি’র অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য।
চোখ রাখুন ‘তালাশ বিডি’তে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন