প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে 'গুন্ডা দমন আইন' কার্যকর করা হলো। গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় গুন্ডা দমন সম্পর্কিত জোড়া বিল পাস হয়। এদের মধ্যে আছে 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল-২০২৬', এবং 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেনেন্স অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬'।
এই আইন অনুযায়ী, কোনো নাশকতা ঘটার আগে, অর্থাৎ অশান্তির আঁচ পেলেই অভিযুক্তকে আগে থেকেই গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া, যেকোনো সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার।
এই আইন মোতাবেক সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে অথবা মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ভুগতে পারেন, এমন কর্মকাণ্ডগুলোকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আওতায় রয়েছে- জনগণের মধ্যে আতঙ্ক, বিপদ, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করাসহ জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তি বিঘ্নিত করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর অথবা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনিভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা।
কোন কোন কাজকে সমাজবিরোধী তা ব্যাখ্যার পর আইনে গুন্ডার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজে, অথবা কোনো দল (গ্যাং) বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে সমাজবিরোধী কাজ করেন, তাহলে তাকে 'গুন্ডা' হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
নতুন এই আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই আইন হওয়ারই ছিল, এটি প্রয়োজন ছিল। গত ১৫ বছর গুন্ডাদের সরকার ছিল এবং তার আগে ৩৪ বছরের হার্মাদদের সরকার ছিল। গত ১৫ বছরের তৃণমূলের গুন্ডাদের জব্দ করার জন্য এই আইনের প্রয়োজন ছিল। বিধানসভায় আমরা আইন পেশ করেছি এবং রাজ্যপাল তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, অবশ্যই আইনটি আনা উচিত ছিল। কারণ, সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক কাজকর্ম এই রাজ্যেই হয়ে থাকে এবং এখানে কোনো আইন ব্যবস্থা নেই। অপরাধীদের সোজা করতে কঠোর আইন আনা দরকার।
দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, এটা একটি দমনকারী আইন। এটি আমি আগে বলেছি। এই আইন কার্যকর করার অর্থই হলো বিরোধীদের নাস্তানাবুদ করা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করা। এটি একটি কালো কালো আইন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন