প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’ বা ‘লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস-২০২৭ উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব এবং বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হল ৫০৭-এ একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি প্রদক্ষিণ করে ডি-ব্লকের পাশ দিয়ে সি-ব্লক ও কেবিন ব্লক হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, সোরিয়াসিস একটি দৃশ্যমান ত্বকের রোগ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে নিকটাত্মীয়, পরিবারের সদস্য, সমাজ বা কর্মক্ষেত্রের মানুষ অনেক সময় দূরে থাকতে চান। সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাবের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা। এই রোগ কখনোই ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে তাঁরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন।
অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী আরও বলেন, এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি ত্বকে দৃশ্যমান হয়। এই রোগীদের এক-তৃতীয়াংশ আর্থ্রাইটিসে ভুগেন। যদি এই আর্থ্রাইটিস প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়, তবে তা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সোরিয়াসিসও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে যদি তা করা না হয়, তাহলে আর্থ্রাইটিস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তখন এটি মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মেরুদণ্ড আক্রান্ত করে এবং চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, যুগের অগ্রগতির সঙ্গে অনেক আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এসেছে। এসব চিকিৎসা রোগীদের প্রদান করা গেলে সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বার্তা ছড়িয়ে দেবেন। সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। এটি কখনোই ছোঁয়াচে রোগ নয়।
তিনি আরও বলেন, সোরিয়াসিস চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা তাঁদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখতে হবে, সোরিয়াসিস কোনোভাবেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ও মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুনীর রশিদ, সোরিয়াসিস সচেতনতা ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সামিউল হক, বিএমইউর চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুবনা খন্দকার, সহযোগী অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোস্তাক মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা, ডা. মোহাম্মদ আবু নাছেরসহ উক্ত বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকরা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী।
এসব কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক ডার্মাটোলজিস্ট জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে যোগদান করেন। তাঁরা সোরিয়াসিস রোগ, এর মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসব কর্মসূচিতে দেশের ৩০০ জনের অধিক ডার্মাটোলজিস্ট অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন