প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজকে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের ধাক্কার ঘটনায় নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি অভিযানে থাকা ভারতের একটি সম্মুখসারির নৌ-যুদ্ধজাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে একটি পাকিস্তানি জাহাজ। জানা যায়, ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় জাহাজটিকে ‘ঘেঁষে’ চলে যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে এটি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সমস্ত সামরিক ইউনিটের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং উভয় পক্ষের মধ্যকার প্রাসঙ্গিক চুক্তির বিধানগুলোকে সম্মান করা প্রয়োজন।’
পাকিস্তানি কূটনীতিককে ভারতের এই বার্তাটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, পাকিস্তানি কূটনীতিককে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনপথ কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল এবং সেখানে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে এবং এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে, মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে পাকিস্তানি নৌজাহাজের এই আচরণটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী, যা সামরিক মহড়া, রণকৌশল এবং সেনা চলাচলের আগাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানি জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে অপেশাদার এবং অনিরাপদভাবে রণকৌশল প্রদর্শন করছিল, যার ফলে এই সংঘর্ষ ঘটে। ঠিক কোন কোন জাহাজ জড়িত ছিল তা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তবে, সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এটি ছিল পাকিস্তানের একটি ‘হুনাইন-ক্লাস কর্ভেট’, যা ভারতের একটি সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
সূত্র জানায়, ঘটনার সময় সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল এবং পরে উভয় জাহাজই সেখান থেকে সরে যায়। সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে, ‘উত্তাল সমুদ্রে কিভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তা না জেনে পাকিস্তানি নৌবাহিনী আক্রমণাত্মক, হুমকিস্বরূপ এবং অপেশাদার আচরণ দেখিয়েছে।’
এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘বাবর’ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস গোদাবরী’ একই ধরনের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন