প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাতার। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায়, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ টন এলএনজি ক্রয় করবে কাতারএনার্জি। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানি চেনিয়ের এনার্জির দুটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতি বছর ২০ লাখ টন এলএনজি ক্রয় করবে কাতারএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অবস্থিত সাবিন পাস এবং টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি কেন্দ্র থেকে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২০৩০-এর দশকের শুরুতে সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৫৪ সাল পর্যন্ত চলমান থাকবে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ। তবে মার্চে যুদ্ধের প্রথম মাসে ইরানের হামলার ফলে দেশটির রাস লাফান গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এই কারণে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি পূরণ করতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন জাহাজে ইরানের হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি রফতানি প্রকল্পের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক। চলতি বছরের ৩০ মার্চ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
যদিও কাতারের নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্রে ক্ষতি হয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ পাবে কাতারএনার্জি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক ইরা জোসেফ মে মাসে মন্তব্য করেছিলেন, "সরবরাহে বিঘ্নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগীরা চাপে পড়েছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এতে মার্কিন তেল ও গ্যাস উৎপাদকরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।"
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক এলএনজি আমদানিকারক হয়ে উঠবে। ওই মাসে এশিয়ায় ২০২ বিলিয়ন ঘনফুট মার্কিন এলএনজি সরবরাহ করা হবে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানিতে ইউরোপকে ছাড়িয়ে যাবে এশিয়া।
কাতারের নতুন চুক্তি একদিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া পরিবর্তনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়াবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ক্র্যাডল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন