প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ‘শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সঞ্চয় করা টাকা ফেরত না পেয়ে ১৫ শতাংশ মুনাফার আশ্বাসে চরম বিপাকে পড়েছেন সমিতির শত শত সদস্য। পাওনা টাকা উদ্ধারে ভুক্তভোগীদের অনেকেই এখন থানায় ও আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
সমিতির কার্যালয়ে তালা দিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম চলে যাওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাওনাট বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনটির নিচতলার দোকানপাট ও ওপরের তলার অফিসগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
সমিতি সূত্র ও সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে সদস্য করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। ১৫ শতাংশ মুনাফার প্রলোভনে অনেক সদস্য ব্যাংক থেকে সঞ্চয় তুলে সমিতিতে জমা রেখেছেন। সদস্যদের দাবি, সমিতির মোট মূলধন প্রায় ১০ কোটি টাকা।
২০১০ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধন নিয়ে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এর সভাপতি আবুল হাসেম (৪৬)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
ভুক্তভোগী সদস্যরা জানান, সভাপতি অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর প্রথম দিকে প্রতিদিনই সদস্যরা কার্যালয়ে ভিড় করতেন। কিন্তু অফিসটি টানা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই টাকা ফেরতের আশায় আইনগত ব্যবস্থার দিকে হাঁটছেন।
বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তাঁরা দুজন মিলে সমিতিতে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা রেখেছেন। সভাপতি চলে যাওয়ার পর থেকে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো দিশা মিলছে না। চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাস বলেন, তাঁর ২ লাখ ১০ হাজার টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে। ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক নারী সদস্য জানান, তিনি ৬ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, সভাপতি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ভারতে এক বন্ধুর বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার কারণ জানতে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সদস্যদের অভিযোগ, সভাপতির আত্মগোপনের পেছনে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সমিতির একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কার্যালয় কীভাবে খোলা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা থানায় অভিযোগ করছেন, আমরাও পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। তিনি আরও জানান, গত বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৯৬ জন; তবে চলতি বছরের হালনাগাদ সংখ্যা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সমিতির সদস্য সংখ্যাও তাঁর জানা নেই।
অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটার পরও জেলা সমবায় কর্মকর্তা কিছু জানেন না বললে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অফিস বন্ধ ও মূল উদ্যোক্তার নিরুদ্দেশ হওয়ায় সঞ্চয়ের সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। টাকা ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শত শত ভুক্তভোগী পরিবারের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন