প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন একই দিনে দেশে ফিরে একটি বিশেষ বিজয় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে। সোমবার, মাদ্রিদের রাস্তায় খোলা ছাদের বাসে বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে তারা বর্ষণধারা বিজয়ের সাক্ষী হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ উচ্ছ্বসিত সমর্থক তাদের শুভেচ্ছা জানাতে রাস্তায় ভিড় করে।
প্রচণ্ড রোদ সহ্য করে শহরের প্রধান সড়কগুলো ধরে এই শোভাযাত্রা চলতে থাকে। খেলোয়াড়রা পানীয় হাতে উদযাপনে মেতে ওঠে এবং লাল-হলুদ রঙে সজ্জিত সমর্থকদের ঢল বাসটির সামনে অপেক্ষা করছিল। পরে পুরো দল সিবেলেস স্কয়ারে পৌঁছে মঞ্চে বিরাজমান উৎসবে গভীর রাত পর্বত পর্যন্ত অংশ নেয়।

দলের খেলোয়াড় ও প্রধান কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেকে সমর্থকদের সামনে একের পর এক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দের গানের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয় এবং “উই আর চ্যাম্পিয়ন্স” লেখা টি-শার্ট পরে সমর্থকদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।
ভিডিও বার্তায় পপ তারকা শাকিরা বলেন, "স্পেন বিশ্বকে দেখিয়েছে একসঙ্গে, এক মন ও এক হৃদয় নিযয়ে কাজ করার অর্থ কী।"
কোচ ডি লা ফুয়েন্তেও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা"। তিনি জানান, "একসঙ্গে থাকলে আমরা আরও শক্তিশালী হবো।" এর পর, খেলোয়াড়দের ও কোচিং স্টাফদের নিয়ে ট্রফি হাতে দলীয় ছবি তোলা হয়। অধিনায়ক রদ্রি আবারো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, যেভাবে তিনি রোববার নিউ জার্সিতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাদ্রিদে ফিরে আসার পর, সোমবার সকালে খেলোয়াড়দের প্রথমে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রাজপরিবার সংবর্ধনা জানান। তারপর, তারা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেখান থেকেই বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়।
শোভাযাত্রার সময়, খেলোয়াড়রা ঝকঝকে বিশ্বকাপ ট্রফি একে অপরের হাতে তুলে দেন। ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে।
রাজা ফিলিপ স্পেনের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, "তোমরা নিজেদের দৃঢ়তা, লড়াকু মানসিকতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছ। তুমি হৃদয় ও মস্তিষ্ক- দুটিরই অসাধারণ সমন্বয় ঘটিয়েছ।" রাজদরবারে খেলোয়াড়রা আনুষ্ঠানিক স্যুট পরেছিলেন। তবে গরমের দিনে শোভাযাত্রার জন্য পরে তারা আরামদায়ক পোশাক পরেন।

দলের বাসের সামনে লেখা ছিল "বিশ্বের রাজারা"। সমর্থকেরা বারবার তাদের নায়কদের উদ্দেশে "চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন" ধ্বনি তুলছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বকাপের জয়ের পর, দলের সদস্যরা আইবেরিয়া বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রদ্রি মাথার ওপর বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।
ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। রদ্রি বলেন, "আমি সবসময়ই বলেছি, দেশের হয়ে জেতার চেয়ে সুন্দর কিছু নেই, আর তার ওপরে যদি সেটা বিশ্বকাপ হয়।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রজন্ম বড় হয়েছে ইকার ক্যাসিয়াস ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে বিশ্বকাপ তুলতে দেখে। আজ আমরা নিজেরা সেটা করতে পেরেছি। ফুটবলে এর চেয়ে বড় অর্জন আর নেই।"
১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইনিয়েস্তার অতিরিক্ত সময়ের গোলে স্পেন প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল। তখন বর্তমানের অনেক তরুণ সমর্থকের জন্মই হয়নি। ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হেক্টর মোলার বলেন, "দ্বিতীয় তারকা পাওয়ায় আমি ভীষণ খুশি।" তিনি জানান, বাস শোভাযাত্রার সময় তিনি ফেরান তোরেস, টিনএজার তারকা লামিন ইয়ামাল এবং আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোকে দেখতে পেরেছেন।
হেক্টর বলেন, "এমন একটি দিন নিজের চোখে দেখা আর অন্যের মুখে শোনা- দুই অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা।" ফাইনালের জয়সূচক গোলদাতা ফেরান তোরেস মজা করে বলেন, "আমি তো সত্যিই উড়ছি!" যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশে ফিরে আসার পর নিজের অনুভূতি এভাবেই তুলে ধরেন তিনি।
স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বিজয় শোভাযাত্রা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন মোনক্লোয়া থেকে শুরু হয়ে সিবেলেস স্কয়ারে এসে শেষ হয়। এটি স্পেন জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের স্থান, যেখানে সমর্থকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগে থেকেই জায়গা দখল করে অপেক্ষা করছিলেন। আনন্দ-উল্লাসে ভরা রাতের শেষ দিকে খেলোয়াড়রা কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেকে কাঁধে তুলে নেন। স্পেনের নারী দলও ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সময়ে একটি দেশের পুরুষ ও নারী উভয় দলই বিশ্বকাপের শিরোপাধারী হলো। ২০৩০ সালে স্পেন পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক হবে। সেবার নিজেদের মাটিতে পুরুষ দল শিরোপা রক্ষার মিশনে নামবে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, "বিশ্বকাপের ফাইনালে আমাদের রেকর্ড এখন দুইয়ে দুই। তাহলে ২০৩০ সালে তৃতীয় শিরোপার স্বপ্নই বা দেখব না কেন, বিশেষ করে যখন স্পেনই আয়োজকদের একটি?"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন