প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শেষ হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আগামী বছর জ্বালানির বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই আমাদের সবার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাণিজ্য খাতের উচিত, জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে সেটাও নির্ধারণ করতে হবে।’ গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৭ ডলারে পৌঁছে যায়, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গতকাল সোমবার সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি উইক সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইইএ প্রধান। তিনি আরও জানান, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দাম আরো অনেক বেশি।
তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে সে পূর্বাভাস দিতে রাজি না হলেও ফাতিহ বিরোল বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেলের বাড়তি দাম একই রকম প্রভাব ফেলছে না। ইউরোপের জন্য হয়তো তেলের দাম খুব বেশি নয়। সহজেই তারা তেল কিনতে পারছে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের জন্য ১২০ ডলার দিয়ে তেল কেনা কঠিন। তেলের এই বাড়তি দাম বাণিজ্য ঘাটতিতে প্রভাব ফেলবে।
তবে শীতের মৌসুমে ইউরোপে কিছু জ্বালানির চাহিদা বাড়বে বলে জানান তিনি। ইউরোপ এবার কঠিন শীতের মুখোমুখি হবে। কারণ ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগের মতো গ্যাস রপ্তানি করতে পারছে না। এসব কারণে গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শীত মৌসুমে প্রবেশ করছি। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সাধারণত এ সময় ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যায়। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু অঞ্চলে ঘরবাড়ি গরম রাখতে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। বাড়তি চাহিদার এই মৌসুমে বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগারে রক্ষণাবেক্ষণ চলছে।’
বর্তমান সংকটের ফলে পারমাণবিক জ্বালানি খাতের পুনরুত্থান ঘটবে বলে আশা করছেন বিরোল। আইইএর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে বর্তমানে ৯০ গিগাওয়াট সক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মীয়মাণ রয়েছে। গত চার দশকে এত বেশি সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নজির নেই। সূত্র : ইকোনমিক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন