প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাগোয়া (জাপান), ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জাপানের জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ওয়াতাররু মিয়াউচি আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করছেন। জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি তিনি কৃষিকাজের কাজও করছেন।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট আবারও অলিম্পিকের খেলায় ফিরছে, যা ১২৮ বছর পর ঘটছে। অনেক সময় ক্রিকেটকে বেসবলের পূর্বসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মিয়াউচির স্বপ্ন ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার। তিনি এ বিষয়ে বলেন, “জাপানে যদি পেশাদার দল গড়ে উঠত, যাতে খেলোয়াড়েরা পুরোপুরি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে পারত, তাহলে দারুণ হতো।”
এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় নতুন গতি আনতে চান। ২৭ বছর বয়সী মিয়াউচি আশা করছেন, ক্রীড়াজীবনের সঙ্গে কৃষিকাজের ভারসাম্য রেখে চলার এই প্রচেষ্টা তার দেশে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রিলিমিনারি রাউন্ডে শক্তিশালী আফগানিস্তানের কাছে জাপান বড় ব্যবধানে হারলেও, মাঠে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে একটি ক্যাচ ধরে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শন করেন মিয়াউচি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমি খুশি যে নিজের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পেরেছি। পরেরবার আমি অবশ্যই জিততে চাই।”
ওসাকা প্রিফেকচারের বাসিন্দা মিয়াউচি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বেসবল খেলতেন, তাই ভিন্ন একটি খেলা চেষ্টা করতে ক্রিকেট বেছে নেন। অসাধারণ গতির দৌড়, মাঠের বড় অংশজুড়ে ফিল্ডিং করার সক্ষমতা এবং মাঠের যেকোনো দিকে বল পাঠানোর ব্যাটিং দক্ষতা তাকে জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও মিয়াউচি ক্রিকেট চালিয়ে যান। একই সঙ্গে তোচিগি প্রিফেকচারের সানোতে একটি বিক্রয়কর্মীর চাকরি করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত চাকরি ও খেলাধুলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি চাকরিটি ছেড়ে দেন।
জাতীয় দলের সাবেক সিনিয়র খেলোয়াড় ৩১ বছর বয়সী কেন ওকোশি তার পরবর্তী পদক্ষেপের পথ দেখান। ওকোশি তাকে জানান, ওই দলে যোগ দিলে কাজ ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হবে। এরপর ২৪ বছর বয়সে মিয়াউচি শহরটিতে চলে যান। তার সিনিয়র সতীর্থের মতো তিনিও স্থানীয় উন্নয়ন দলে যোগ দেন এবং আগে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও কৃষিকাজ শুরু করেন।
ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন বছরের মেয়াদ শেষ করার পর তিনি ওকাশি ও অন্যদের প্রতিষ্ঠিত একটি রেস্তোরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। তবে কৃষিকাজের প্রতি তার মনোযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন তিনি শহরের খেতে বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল চাষ করেন, যা ওই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী রেস্তোরাগুলোতে ব্যবহার করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি গাড়ি চালিয়ে প্রায় ৫০ মিনিট দূরের সানোতে নির্দিষ্ট একটি মাঠে যান এবং সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন।
ওকোশি জানান, মিয়াউচির উৎপাদিত কৃষিপণ্য একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিনই দেখেছি, সে কীভাবে কৃষিকাজ ও ক্রিকেট- দুই ক্ষেত্রেই নিজের পুরোটা উজাড় করে দিচ্ছে। এশিয়ান গেমসে সে যেন নিজের পূর্ণ সামর্থ্য প্রকাশ করতে পারে, সেটিই আমি সত্যিই আশা করি।”
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে অনেক দেশেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে লাভজনক পেশাদার ক্রিকেট লিগও বেশ জনপ্রিয়। বিপরীতে, জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে ক্রিকেট খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ৭ হাজার।
এশিয়ান গেমসের জন্য জাপানের ৩০ সদস্যের পুরুষ ও নারী দলের মধ্যে শিক্ষার্থী খেলোয়াড় ছাড়া প্রায় সবাই খেলাধুলার পাশাপাশি পূর্ণকালীন চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে ব্যাংকের কর্মী ও স্কুলশিক্ষকের মতো পেশায় থাকা খেলোয়াড়ও রয়েছেন।
জাপানে বর্তমানে তোচিগি প্রিফেকচারের সানো শহর নিজেকে ক্রিকেটের শহর হিসেবে তুলে ধরছে। ২০১০ সালে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন টোকিও থেকে তাদের সদর দপ্তর সানোতে স্থানান্তর করার পর থেকেই শহরটি ক্রিকেটের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের পুনরুজ্জীবনে কাজ করছে।
২০১৮ সালে পৌর সরকার সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড চালু করে। প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠসহ এটি আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী জাপানের প্রথম ক্রিকেট ভেন্যু। বিদেশি দলগুলোও অনুশীলন ম্যাচের জন্য এই মাঠ ব্যবহার করে।
ক্রিকেটের প্রচারে শহরটি প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এসব আয়োজনে ব্রিটিশ দলগুলোর খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শহরের স্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আশা করি, এশিয়ান গেমস আরও বেশি মানুষকে ক্রিকেট এবং সানো শহর সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন