প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ১২টি বি-১বি বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গত রবিবার বিমানগুলো পশ্চিম ইংল্যান্ডের ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। এর ফলে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন হামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহৃত ঘাঁটিটির ভূমিকা আপাতত শেষ হলো।
ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ইউরোপে ভারী বোমারু বিমানের একমাত্র ঘাঁটি, যা মোতায়েন করা বোমারু বিমানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড অপারেটিং লোকেশন। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে ঘিরে গত দুই সপ্তাহে কথিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ, যিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেন, ‘কিছু হুমকি’ থাকায় বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এসব হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘটনার সঙ্গে কথিত ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ঘাঁটিতে নিয়মিত বিমান বদল বা মোতায়েন পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ডের কাছে বিস্ফোরক রাখার পরিকল্পনার অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গাড়িতে পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। পরে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন। ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে লন্ডনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তেহরানে তলব করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কাছে তিন ধরনের বোমারু বিমান রয়েছে, যা হলো বি-৫২, বি-১বি ও বি-২। এর মধ্যে বি-১বি সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং প্রায় ৩৪ টন প্রচলিত অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান পারমাণবিক ও প্রচলিত—দুই ধরনের অস্ত্রই বহনে সক্ষম। নতুন বি-২১ রেইডার বর্তমানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে রয়েছে এবং ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বোমারু বিমানগুলো কোথা থেকে উড়ে?
যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান মূলত দেশটির পাঁচটি প্রধান ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।
১. Minot Air Force Base (মিনোট বিমানঘাঁটি)
২. Ellsworth Air Force Base (এলসওয়ার্থ বিমানঘাঁটি)
৩. Whiteman Air Force Base (হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি)
৪. Dyess Air Force Base (ডাইস বিমানঘাঁটি)
৫. Barksdale Air Force Base (বার্কসডেল বিমানঘাঁটি)
এসব ঘাঁটিতে দীর্ঘ ও প্রশস্ত রানওয়ে রয়েছে, সাধারণত এসব রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ফুটের (৩ হাজার ৪৮ মিটার) বেশি। ফলে, বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের মতোই দীর্ঘ এসব সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে।
তবে বোমারু বিমান কোথায় পরিচালনা করা যাবে, তা মূলত রানওয়ের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে না। বরং নিরাপত্তাব্যবস্থা, অস্ত্র সংরক্ষণের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিদেশে অভিযান পরিচালনার সময় এগুলো প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গুয়ামের অ্যান্ডারসেন বিমানঘাঁটি, ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়াসহ মিত্রদেশগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিতে অস্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেও আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে বোমারু বিমান হামলা চালাতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে আগের মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় এমন কিছু বোমারু বিমান মিশন ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন