প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের শার্শায় একটি ফাজিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (সুপার) এর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেওয়া এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার (১ জুলাই) ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম নানা সময়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর জন্য এই বিষয়টি এত সময় ধরে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যে সে পরিবারের কাছে কিছুই বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে, তিনি অবশেষে পরিবারের সদস্যদেরকে বিষয়টি জানালেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষা দিতে না দেওয়া, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিটি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা আটকালে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন এবং ছাত্রীর হাত ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর, ২৯ জুন অভিযুক্ত মাদরাসার সুপার ছাত্রীর বাবার হাতে টিসি (স্থানান্তর সনদ) দিয়ে জানান যে, তাঁর মেয়ের নাম প্রতিষ্ঠান থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ছাত্রী এবং তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লিখিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
এ প্রসঙ্গে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন