প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে সংগ্রাম, আন্দোলন, আদর্শ ও অঙ্গীকারের পথ দেখিয়েছেন, সেই পথে চলতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি যে ‘অপরাজেয় পতাকা’ বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেটিকে আমাদের বহন করে এগিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম এবং তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।
রিজভী আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—আমাদের শোকে, সংকটে, এবং বেদনায় যে মানুষটি হিমালয় পর্বতের মতো অখণ্ড ও ভারী প্রেরণার উৎসস্থল ছিলেন, তিনি হলেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপির এই নেতা মন্তব্য করেন, বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের মূর্তিমান প্রতীক, আদর্শের প্রতীক, চেতনার প্রতীক এবং রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক। যতো বেশি তাকে স্মরণ করা হবে এবং তার জীবনাচরণ ও জীবন লক্ষ্য ততো বেশি চর্চা হবে, ততো বেশি নিজেদের মধ্যে শক্তি ও প্রেরণা পাওয়া যাবে।
এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, অসংখ্য নিপীড়ন-নির্যাতন ও অত্যাচারের মধ্যেও তিনি তার আদর্শ ও অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁকে রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরানো সম্ভব হয়নি।
খালেদা জিয়াকে যে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেটির সমালোচনা করে রিজভী মন্তব্য করেন, পরিত্যক্ত ওই কারাগারে তাকে বন্দি রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সেই সময় সেখানে উন্নত চিকিৎসাও প্রদান করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখার উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা যাতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজের একটি রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
তিনি দেশের ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে বলেন, কোটি কোটি টাকা, ২৮ লাখ কোটি টাকা ১৭ বছরে পাচার হয়েছে। এর প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রিজভী আরও বলেন, বেগম জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন সারা দেশের জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি করেছিল, তার পরিণতি আমরা জুলাইয়ের সেই মহাবিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেখেছি।
তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে। তার ভাষায়, ‘সে পালিয়ে গেছে। আর সেই দিনই মুক্তি হয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।’
অতिरिक्त, আগামী দিনের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান সেই পতাকা ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন