প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে বর্জ্য ফেলে পানি দূষণের ফলে কতটা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই এই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
শুনানির সময় সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী ছাড়পত্র বা ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের অনেক শিল্পমালিক আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে ইটিপি ছাড়াই বর্জ্য ফেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ ধ্বংস করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালত পরিবেশ ক্ষতির হিসাব নির্ধারণের জন্য প্রায় এক বছর আগে নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও তা আদালতে দাখিল করেনি।
এর আগে, শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে নদী দূষণের চিত্র তুলে ধরে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ওই পিটিশনের শুনানির পর ২০২৫ সালের মে মাসে হাইকোর্ট রুল জারি করে দূষণকারী কারখানাগুলো মনিটরিং করতে একটি কমিটি গঠন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নদী দূষণের অভিযোগে অভিযুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং এবং হাজী রাসুল ডাইং।
মামলায় এইচআরপিবির পক্ষে পিটিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট রিপন বারই। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নৌপরিবহন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং অভিযুক্ত ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিককে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন