প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি এই বিষয়টি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তুলে ধরেন, এ সময়কালটি জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস' (International Day for Dialogue Among Civilizations) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাস্থ গণচীন দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালমনাই (এবিসিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ডায়ালগ অব কিন্ডারর্ড স্পিরিটস: চায়না - বাংলাদেশ স্কলার্স ডায়ালগ’ শীর্ষক বিশেষ বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক জটিল সন্ধিক্ষণে রয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফাটল সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, সভ্যতার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই, বরং পারস্পরিক মেলবন্ধন ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সর্বদা অর্ন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের আলোকে সমৃদ্ধ উন্নয়ন সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। এই লক্ষ্যে গণচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’ (জিসিআই) -কে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। এই উদ্যোগ সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনগণের সাথে জনগণের মেলবন্ধন (পিপল টু পিপল একচেইঞ্জ) কে অগ্রাধিকার দেয়, যা আমাদের নিজস্ব উন্নয়ন রূপরেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকে বেছে নিই।
মন্ত্রী বাংলাদেশ এবং চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ নতুন পরিচিত বন্ধু নয়। নদী, পাহাড় এবং হাজার বছরের অংশীদারিত্ব ইতিহাস আমাদের যুক্ত করে রেখেছে। প্রাচীন সিল্ক রোড থেকে শুরু করে মহৎ বৌদ্ধ ভিক্ষু অতীশ দীপঙ্করের আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান দুই দেশের গভীর সম্পর্কের চিরন্তন স্মারক। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক একটি অনন্য 'ব্যাপক কৌশলগত সমবায় অংশীদারত্ব' রূপ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গণচীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের পরে, মন্ত্রী এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য এবং চিত্রের ওপর আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনীর সময়, তারা ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি এবং বইয়ের প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। সেমিনারে উপস্থিত সুধীসমাজ, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার প্রসার ও দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন