প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ‘রাজাকারের সন্তান’ হিসেবে চিহ্নিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান বর্তমানে জামায়াতের কাছে এক হিরো হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছে ৭১-এর রাজাকার।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এসব কথা জানান। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে রাজাকারের সন্তান বলার পাশাপাশি মেজর আক্তারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো হয়ে উঠেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘ফেস দ্যা পিপল’ আয়োজিত একটি টকশোতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আক্তারুজ্জামান আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেছেন, এমন দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, “আলোচিত সেই টক শোতে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমাকেও সে রাজাকারের বাচ্চা বলে আক্রমণ করে এবং আরো বলে যে, আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির রাজাকারের সন্তানেরা।”
রাশেদ খান আরও জানান, সেসময় ফেস দ্যা পিপলের সাগর ভাই মেজর আক্তারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেন, এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা? তখন মেজর আক্তারুজ্জামান বলেন, “হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান।”
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সেই জুলাই গাদ্দার, গণহত্যার মদদদাতা মেজর আক্তারুজ্জামান এখন হয়ে গেছেন জামায়াত নেতা। জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা মেজর আক্তারুজ্জামান এখন সুন্দর করে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিতে শিখে গেছেন। আর এতেই তিনি পাকা ঈমানদার ও জনগণের নেতা হয়ে গেছেন।”
ধর্ম ব্যবসা শিখে গেলে সমাজে রাজনীতি করতে আর কী লাগে, এমন প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, শেখ হাসিনাও যদি ক্ষমা চেয়ে জামায়াত করতে আগ্রহী হন, তাহলে কি তিনিও জামায়াতে যোগদানের সুযোগ পাবেন?
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের মামলায় জামিনে মুক্তির পর জামায়াতের সহযোগী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের সংবর্ধনা দেয় দলটির নেতারা। জামায়াতের আমির দাবি করেন, আখতারুজ্জামান কারো গায়ে হাত দেননি। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলা মিথ্যা।
এই প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, “মেজর আক্তারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ মন্তব্য করছে, ২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিল ৭১-এর রাজাকার।”
তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে আজ যখন মেজর আক্তারুজ্জামান বলছিলেন, ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাইতে পারেনি, তোমরা কি ঠেকইবা। মেজর আক্তারুজ্জামান ‘ইয়াহিয়া খান ও ৭১-এর প্রসঙ্গে’ যাওয়ার সময় জামায়াতের আমির হয়তো জিহ্বায় কামড় দিচ্ছিলেন এবং ভাবছিলেন, আরে কি কয়, কি কয়, এখনো পাক্কা জামায়াত তো হতে পারলি না। আমি তোকে নিয়ে প্রশংসা করে বলিনি, মেজর আক্তারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নেতা নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের নেতা। তাও ব্যাটা ৭১, ৭১ করে কলিজায় আগুন ধরিয়ে দিস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন