প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ব্যক্তিগত স্বার্থের তুলনায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক আদর্শ এবং দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও লক্ষ্য গড়ে তুলতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করার পর ৪৫তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের ১৯ জন নবীন কর্মকর্তা বাহিনীর সদর দপ্তরে উপস্থিত হন। এ উপলক্ষে মহাপরিচালক তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন। পরে অনুষ্ঠিত স্বাগত ও পরিচিতিমূলক সভায় নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব, নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বাহিনীর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বৃহত্তম জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এই বাহিনী ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের নিয়ে গঠিত। প্রতিটি স্তরের সদস্যের দায়িত্ব ও ভূমিকা আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণে তাদের সম্মিলিত অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে এই বিশাল সাংগঠনিক শক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মহাপরিচালক বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা, প্রত্যাশা ও উপলব্ধি আলাদা, এবং কর্মজীবনের লক্ষ্য ও অভিজ্ঞতাও ভিন্ন হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত প্রত্যাশাকে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আদর্শ ও দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সাংগঠনিক উৎকর্ষ অর্জন এবং জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক নিরাপত্তা, জনকল্যাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নেও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সদস্যদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করে এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা, তাদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝা এবং সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তিকে আরও গতিশীল করতে হবে।
দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় নবীন কর্মকর্তাদের বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারণ করে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন