প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংগঠন মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছে ব্রিটিশ-ইসরাইলি একটি তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে, যা বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের নিকটবর্তী।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘লাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিকে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মামলাটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিন আগে বলেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি তিনি নাকচ করছেন না।
আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আর্জেন্টিনার জন্য ‘পবিত্র’ মালভিনাস ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
মিলে প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় স্বার্থের জন্য মালভিনাস ইস্যুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত আর কী বিষয় হতে পারে?’
ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম ‘সি লায়ন’ নামে পরিচিত এই তেলক্ষেত্রকে ঘিরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়।
মামলাকারী যুদ্ধের সাবেক সৈনিক ও পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীদের মতে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে বড় আকারের তেল উত্তোলন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মামলাকারীরা দাবি করেছেন, জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের সঙ্গে এই প্রকল্পের বিরোধ রয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ চলমান থাকলে একতরফাভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা বিরোধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যদিও প্রকল্পটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে মামলাকারীরা মনে করছেন, স্থানীয় আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনজীবী এনরিক ভিয়ালে এএফপিকে বলেন, মামলায় আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ‘কাজ শুরু বা চালিয়ে যাওয়া এবং হাইড্রোকার্বন উত্তোলন ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু’ থেকে বিরত থাকে।
ফকল্যান্ড ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখনও আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।
গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল— ‘লাস মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’
এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’
১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করলে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দ্বীপপুঞ্জ পুনর্দখলের জন্য একটি নৌবহর পাঠান।
এর জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন।
সোমবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব অবস্থানই পর্যালোচনা করি। এটি সেগুলোর মধ্যে একটি।’
ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন