প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বিশেষ করে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। শহরটির বায়ুমান টানা কয়েকদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অবস্থান বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম। শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৬২। গত শুক্রবার ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৮১। উভয় স্কোরই শহরের বাতাসের জন্য অস্বাস্থ্যকর হলেও গতকালের তুলনায় দূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান ওঠানামা করতে পারে।
একই সময়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এই শহরের বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২০৫, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হওয়া ছাড়াও তালিকায় আরও ১২টি শহর রয়েছে। এগুলো হলো- ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও মেদান, পাকিস্তানের করাচি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ইতালির মিলান, ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লি, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, ইরাকের বাগদাদ, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহার শহর।
বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর শহরের তালিকায় আটটি শহর রয়েছে। এগুলো হলো- ভিয়েতনামের হো চি মিন ও হেনোয়, বাহারাইনের মানামা, আরব আমিরাতের দুবাই, কঙ্গোর কিনশাসা, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের হাংজু এবং উজবেকিস্তানের তাসকেন্ত।
একিউআইয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের বায়ু সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলাবালিসহ নানা কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব দূষণকারী উপাদান বায়ুর মানের অবনতি ঘটিয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা এই বায়ুদূষণের কারণে বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বায়ুর মান উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন