প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিজি দ্বীপপুঞ্জের নীল জলে তখন সূর্যের আলো হালকা করে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রশংসিত ফিশিং ইনফ্লুয়েন্সার হেনরি গিবস তখন ডাইভিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পানিতে নেমেছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দঘন মুহূর্তে কিছুক্ষণের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে! গভীর পানিতে ডুব দেওয়ার সময় হঠাৎ এক সামুদ্রিক শিকারীর মুখোমুখি হন তিনি।
বিকট এক আক্রমণ ঘটে পূর্বাভাস ছাড়াই। একটি হাঙর অতর্কিতে এসে আক্রমণ করে বসে হেনরির ওপর। যখন পানির নিচে চরম একটি মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছে, তখন তার দুই সঙ্গী বিশেষভাবে সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তারা মুহূর্তের বিলম্ব না করে হেনরিকে পানির ওপরে নিয়ে আসেন এবং দ্রুততার সাথে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের বিছানায় শুরু হয় নতুন এক লড়াই। ডান পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে তাকে একের পর এক কঠিন ট্রমা সহ্য করতে হয়। চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। তারপরে একে একে চারটি সফল সার্জারি এবং ডান পায়ে স্কিন গ্রাফট সম্পন্ন হওয়ার পর একসময় আশার আলো দেখতে পান হেনরি।
দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর অবশেষে হেনরি হাসপাতালের বিছানা থেকে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে তার অবস্থার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে এবং চিকিৎসকদের মতে, তিনি শিগগিরই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা ফিজি এবং নিউজিল্যান্ডের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যদিও এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তার ওপর ভীষণ চাপ ফেলেছে, তবুও হেনরির মনে হাঙরের প্রতি বিন্দুমাত্র ক্ষোভ বা রাগ নেই। তিনি মনে করেন, তিনি নিজেই হাঙরের আবাসস্থলে প্রবেশ করেছিলেন এবং মূলত তাদের শিকারের এলাকায় গিয়ে পড়েছিলেন। এটিকে তিনি নিজের ভাষায় এমন একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত থাকার ফলে ঘটেছে।
হেনরি ঘটনা সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ করেছে এবং দ্রুত তার অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করার পরিকল্পনা করছেন। তার উদ্দেশ্য হলো, অন্যরা যেন এই ধরনের বিপদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে সক্ষম হয়।
জীবন ও মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসার পর হেনরির দৃষ্টিভঙ্গিতে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখন নিজের বেঁচে থাকাকে পরম সৌভাগ্য এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন