প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অধিক দামে ইউরিয়া সার বিক্রি ও অবৈধ পরিবহনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৫ বস্তা সার জব্দ করেছে। একই সাথে আইন লঙ্ঘনের কারণে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা খবর পেয়ে সার পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির চালক ও ক্রেতাদের আটক করে পুলিশে দেয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঝগড়ারচর উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভেলুয়া ইউনিয়নে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। এর মধ্যেই মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স থেকে ১৫ বস্তা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ বস্তা-মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করে পরিবহন করা হচ্ছিল। স্থানীয় কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে সারবহনকারী গাড়ি সহ চালক ও ক্রেতাদের আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
আটক হওয়া ক্রেতারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাজ এলাকার স্থানীয় কৃষক বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে সার কিনতে গেলে সেখানে 'সার নেই' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর বাজারে এসে সার সংগ্রহ করেন। তারা আরও জানান, ঝগড়ারচর বাজারের মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স ও চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দামে মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার কেনেন। পরে ভটভটি গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব-উল-আহসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ এবং শ্রীবরদী থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ভেলুয়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ী মুরাদুজ্জামান ও তার জামাতা সারোয়ার জাহান অনিক নতুন সার ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং ডিলারশিপ নিশ্চিত করতে তারা বিপুল অংকের (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) লেনদেন করেছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ডিলারশিপ অনুমোদনের আগে যদি সার অনিয়ম, চড়া দামে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে ডিলারশিপ পাওয়ার পর সাধারণ কৃষকদের সার বিতরণ ব্যবস্থার কী অবস্থা হবে? এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন