প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডেভিড ইমনের সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ আগস্ট) রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত, রিকু, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার, আহমদ রেজা শাকিল, নুরুল আলম ও মো. মানিক।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার জানান, ভুক্তভোগী চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার পরিচালনা করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ১০ লাখ টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা চাঁদার পরিমাণ ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং চিকিৎসককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘সেই ডায়েরির সূত্র ধরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গতকাল রাতে সাতজনকে আমরা আটক করেছি।
আটককৃতরা কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী। উল্লেখ্য, ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের সহযোগী।
সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে একটি বিদেশি নম্বর থেকে চিকিৎসককে ফোন করা হয়। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন। অন্যথায় চেম্বারে এসে তাকে হত্যার হুমকি দেন।
পরবর্তীতে বড় সাজ্জাদের সহযোগী মো. রায়হান পরিচয়ে চিকিৎসক পারভেজকে হুমকি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত ও অডিও বার্তা পাঠানো হয়।
বার্তায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘টাকা না পাঠালে অনেক বড় বিপদ হয়ে যাবে। তোমার পেছনে আমাদের লোক লাগানো আছে। তোমার গাড়ির নম্বরও আছে। ১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব। রোগী সেজে তোমাকে মেরে ফেলা হবে, চেম্বারে গিয়ে।’
নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তরা চাঁদার অঙ্ক দ্বিগুণ করে আবারও হুমকি দেয়। শেষ হুমকিতে বলা হয়, ‘আমি রায়হানকে, তুমি চেনো না। বেয়াদবি করতেছ। ১০ লাখ টাকার বদলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে।’
বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একে-৪৭, এসমএমজি সহ ভারী অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এসপি মাসুদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা এখন পর্যন্ত সব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ভারী অস্ত্র নিয়ে তাদের যে তথ্য রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন