প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ৩১ অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দলীয় জোটের পরিকল্পিত রাজনৈতিক সমাবেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা ও পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে এবং সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের আহ্বানে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। এসময় তারা "কুষ্টিয়া জিলা স্কুল সবার, ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্বও সবার" লেখা একটি ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট তাদের ৭ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে একটি লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে। এই লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ আগামী ৩১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়োজকদের এই স্থান নির্বাচনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথে সরব হয়েছেন স্কুলটির প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্ররা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে লক্ষাধিক স্কুল থাকলেও জিলা স্কুলের সংখ্যা মাত্র ১৫টি। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গত ৬৩ বছরের ইতিহাসে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশ হয়নি। মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা স্পষ্ট জানিয়েছেন, লংমার্চ বা কোনো দলের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি তাদের কোনো বিরোধ নেই, তাদের একমাত্র আপত্তি 'কুষ্টিয়া জিলা স্কুল' মাঠে এর আয়োজন নিয়ে। জেদাজেদির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত এড়াতে তারা বিকল্প হিসেবে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠ, ডিসি কোর্ট চত্বর, কুষ্টিয়া বাইপাস অথবা শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নেতা আমির হামজাসহ লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের আবেগকে সম্মান জানিয়ে সমাবেশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সমাবেশের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে। যদিও অভিযোগ উঠেছে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে 'ওপর মহল থেকে অনুমতি নিয়ে আসার' কথা বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করাটাই উত্তম। তিনি নিশ্চিত করেন যে, আগামী ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা জোটের পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন