প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘আমি এখন পথের ফকির হয়ে গেলাম। তিল তিল করে জমানো সব সঞ্চয় দিয়ে দোকানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। এই দোকানের আয়েই স্ত্রী-সন্তানদের মুখে ভাত জুটতো। এক রাতেই আমার সব স্বপ্ন এভাবে মাটিতে মিশে যাবে, তা কখনো ভাবিনি।’
পোড়া দোকানের ছাইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ডুকরে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ধানীপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হক (৩৫)। অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সাজানো সংসারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানীপাড়া এলাকার ব্রিজসংলগ্ন অজয় চন্দ্র সাহার একটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে মুদি দোকান চালিয়ে আসছিলেন মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে আজিজুল হক। নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন রাতে তিনি দোকানেই ঘুমাতেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন।
আজিজুলের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে আনুমানিক ১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শত্রুতার জেরে দোকানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করলেও এর আগেই দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
আগুনে দোকানের মুদি পণ্য, একটি বড় ফ্রিজ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আজিজুল।
আজিজুল হক বলেন, ‘আমার জানামতে কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। দোকানটি দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছিলাম। সবকিছু হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মন্নান বলেন, আজিজুল শান্ত ও ভালো স্বভাবের মানুষ। এলাকায় তার কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ নেই। কীভাবে এত অল্প সময়ে দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর সহায়তায় দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আজিজুল হক।
আজিজুলের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সব হারিয়ে এখন শুধু সহায়তার অপেক্ষায় আজিজুল ও তার পরিবার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন