প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউডের আরেক অভিনেতা তুষার কাপুরের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ এসেছে, যখন বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশকে তুষার কাপুর জানিয়েছেন যে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার কাছে ফোন করে ৫ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছে।
মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের প্রাথমিক তদন্তে ফোনকারীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে যে, এই হুমকিটি একটি ভুয়া বা প্রতারণামূলক ফোন হতে পারে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ফোনকারী নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য ‘হ্যারি বক্সার’ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং অভিনেতার কাছে ৫ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করে। তুষার কাপুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মুম্বাই পুলিশকে জানান। এরপর ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের চাঁদাবাজি বিরোধী শাখা এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে মূল বিরোধ সুপারস্টার সালমান খানের। তারা একাধিকবার সালমান খান এবং তার ঘনিষ্ঠদের হুমকি দিয়েছে বা হামলা করেছে। টাইগার শ্রফ একটি সিনেমার প্রচারে সালমান খানকে বলিউডের একমাত্র টাইগার বলেছিলেন। এরপর থেকে তিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে পরিণত হন। গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। যদিও টাইগার শ্রফের গায়ে গুলি লাগেনি, তবে তার গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হয়েছেন।
তবে তুষার কাপুরের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ক্রাইম ব্রাঞ্চের টেকনিক্যাল টিম হুমকির ফোনের অডিও রেকর্ডিংটি পরীক্ষা করে এবং তাদের ডেটাবেজে থাকা হ্যারি বক্সারের অফিশিয়াল কণ্ঠস্বরের নমুনার সাথে তা মিলিয়ে দেখে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কণ্ঠস্বরের নমুনা দুটি মেলেনি। এতে পুলিশের এই সন্দেহ আরো জোরালো হয়েছে যে, ফোনকারী অভিনেতাকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যের নাম মিথ্যাভাবে ব্যবহার করে থাকতে পারে।
তদন্তকারীরা হ্যারি বক্সারের অন্যান্য অডিও নমুনার সঙ্গে রেকর্ডিংটি তুলনা করে দেখেছেন। প্রাথমিক ভয়েস অ্যানালাইসিস বা কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণেও কোনো মিল পাওয়া যায়নি, যা আরো ইঙ্গিত করে যে ফোনকারী মূলত ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ এখন এই ফোনের পেছনের ব্যক্তিকে শনাক্ত করার এবং হুমকির এই বার্তাটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছিল তার উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, অভিনেতাকে ভয় দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের জন্য ফোনকারী ইচ্ছাকৃতভাবে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম ব্যবহার করেছিল কি না।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তুষার কাপুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে এই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা ফোনকারীকে শনাক্ত করতে এবং এই কথিত চাঁদাবাজির হুমকির উৎস নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন