প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিমাগারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর দাম ১১ টাকা। কিন্তু ঘাটতি ও সংরক্ষণ খরচ ৯ টাকারও বেশি পড়ছে। কিছু কৃষক আলু বিক্রি করে কিছু টাকা ফেরত পেতে আগ্রহী হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামে আলুর এই নিম্নমুখী দামও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লোকসানের ভয়ে জেলার পাইকাররা হিমাগারের চৌহদ্দি এড়িয়ে চলছেন।
এদিকে, যেসব কৃষক হিমাগার থেকে ঋণ ও খালি বস্তা নিয়েছেন, তাদের ভাড়াসহ দায় মেটাতে গেলে উল্টো ঘর থেকে টাকা এনে দিতে হয় হিমাগারে। ফলে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা হিমাগারমুখী হচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে জেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলু চাষি ও হিমাগার সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। খালি বস্তার সংকট ও উচ্চ মূল্য ছাড়াও হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর ফলে সংরক্ষণ খরচ বেড়ে গেছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় গুঁড়েবালি দেখা দেয় শুরু থেকেই। প্রতি কেজি আলু হিমাগারে ১৪ টাকা থেকে ১৭ টাকায় বেচাকেনা হয়ে থাকে। যদিও উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ ২০ টাকারও বেশি।
বেশির ভাগ কৃষক ও ব্যবসায়ী দাম বাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু দাম কমতে কমতে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১২ টাকায় নেমে এসেছে, ফলে বিক্রি কমছে। তাদের স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবুও হিমাগারে আলু আটকে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান জানান, তার নিজের মাত্র ২০ শতক জমি রয়েছে। একরপ্রতি ৩২ হাজার টাকায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে আলুর চাষ করেছিলেন। খরচ পড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা। উৎপাদিত এক হাজার ৫০ বস্তার (৬৫ কেজি) পুরোটাই হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮০ বস্তা আলু বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পান। তখন কেজিপ্রতি আলুর দর ছিল ১৬ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ১১ টাকায়ও ক্রেতা মিলছে না।
আসাদুজ্জামান জানান, গত বছর আলুতে লোকসানের পর গরু ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি ছাড়াও ঋণ করে আলুর চাষ করেছিলেন, কিন্তু দাম বিপর্যয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার জোগাড় হয়েছে। এ অবস্থায় দিনমজুরি করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না তিনি।
একই অবস্থা ভানুরভিটা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানার। তিন একর জমিতে ছয় লাখ টাকা খরচ করে পেয়েছেন মাত্র দুই লাখ টাকা। এবার আর আলু চাষ করার মতো পুঁজি নেই তার।
আলু ব্যবসায়ী মজনু মিয়া জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। ফলে আলু কিনলেই অনিবার্য লোকসান। তাই তিনি হাত গুঁটিয়ে বসে রয়েছেন। ঢাকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও আলু কেনার চাহিদা আসছে না।
বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, এবছর হিমাগারটিতে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। বাকি রয়েছে আরো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসে কোনোভাবেই বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।
ব্যবস্থাপক শরিফের ভাষ্য, ক্রেতা সংকট তো আছেই, তার ওপর আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ী ও কৃষকরা দেনা পরিশোধের ভয়ে আলু বিক্রি করতে আসছেন না। তারা হিমাগার থেকে প্রতিবস্তা আলুর বিপরীতে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। অগ্রিম খালিবস্তা ও বহন খরচও নিয়েছেন। ফলে আলু বিক্রি করতে এলে উল্টো দেনা পরিশোধ করার ভয় রয়েছে।
শুধু বাবর কোল্ড স্টোরেজ নয়, জেলার আরো পাঁচটি হিমাগারে কমবেশি একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও ৪০ ভাগ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ আলু এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। মৌসুমের শেষে এসব হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রিমা মনি শীল জানান, আলুর দাম দিন দিন কমছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন