প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র স্কুল পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুর আড়াইটায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সাইফুল ইসলাম তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। তুহিন জানায়, এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুল নামে আরও দুই যুবক জড়িত ছিল। এরপর পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকেও হেফাজতে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পরে অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে তুহিনসহ অন্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তথ্য-প্রমাণ যাচাই করছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তার বাবার নাম নূর আলম। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকায় তাদের বাড়ি। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়লেও পরবর্তীতে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। গ্রেপ্তার মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। সে একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর গ্রেপ্তার মো. কামরুল হাসানের বয়স ১৮ বছর। তার বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে। আর আটক সিয়াম (১৯) একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া কারও বিরুদ্ধে আগে কোনো পিসিআর বা পূর্ব অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য বিষয়েও তদন্ত চলছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন