প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার জন্য পৌঁছেছেন। শনিবার তারা মস্কোয় পৌঁছানোর পর রুশ প্রেসিডেন্টের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ তাদের স্বাগত জানান।
রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের প্রত্যক্ষদর্শী রিপোর্ট অনুযায়ী, উইটকফ, কুশনার এবং দিমিত্রিয়েভকে বহনকারী গাড়িবহর ভনুকোভো বিমানবন্দর থেকে মস্কোর কেন্দ্রের দিকে রওনা দেয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, শনিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেনে পাঁচ বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মস্কো সফরের পর রবিবার উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনে যাবেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন দূতদের কিয়েভ সফরের আগে রাশিয়া ইউক্রেনের দুটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ সফরের প্রেক্ষিতে শনিবার মধ্যরাত থেকে তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, মার্কিন দূতদের ইউক্রেন সফরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তির পথে বড় বাধা
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান বিদ্যমান। ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে—যা দুই বছর আগে পুতিন যে অবস্থান জানিয়েছিলেন, তা এখনো ‘অপরিবর্তনীয়’।
ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি অংশ দখলে নেওয়ার আগে পুতিন যুদ্ধের সম্মুখসীমা নিয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে চান না। ওই সূত্রের দাবি, রুশ প্রেসিডেন্টের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দোনেৎস্কের বাকি অংশও দখলে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন সম্ভাবনাকে দূরবর্তী বলে মনে করছেন। রাশিয়ার অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে তাদের ধারণা।
গত ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ শান্তি আলোচনা হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথেও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়। এটি ছিল রাজধানী কিয়েভে টানা দশম দিনের ভারী হামলা। এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলেনস্কি।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন