প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনায় বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসল ডুবতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় জেলার কলমাকান্দা সহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করছেন।
ইতিমধ্যে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কৃষকদের পক্ষ থেকে অসংখ্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলমাকান্দা উপজেলায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে নতুন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। কারণ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেই ইউপি চেয়ারম্যানদেরই রাখা হয়েছে তদন্ত কমিটিতে।
চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ প্রায় সব এলাকার বিস্তর ফসলি জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার হাওর উপজেলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার মোট ১৬ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে রয়েছে। এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৩ জন কৃষক।
সরকার এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদানে চালসহ আর্থিক অনুদান কর্মসূচির জন্য তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং একই ঘরের একাধিক জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এসব তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং খোদ ব্লক পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নামও উঠে এসেছে।
গণস্বাক্ষর দিয়ে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর খান এবং শাহিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাবই গ্রামের ২০ জন উপকারভোগী কৃষকের মধ্যে ১৫ জনই কৃষি কর্মকর্তা শাহীনের নিজের আত্মীয়-স্বজন। তিনি নারীদের পাশাপাশি নিজের চাচাতো ভাইদেরও সরকারি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গ্রামে থাকার সুবাদে নূর খান ও শাহিন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কৃষি বীজ, সারসহ সকল প্রকার সরকারি প্রণোদনায় এ ধরনের অনিয়ম করে চলে আসছেন।
এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। তবে পরে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ দেওয়ার নামে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শাহিন। এ সময় তিনি প্রভাবশালীদের রেফারেন্স দিয়ে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রচেষ্টাও করেন।
এদিকে কলমাকান্দার এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন