প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান বেহালদশা আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংস্কারের জরুরী তাগিদ এসেছে পর্যবেক্ষক মহলের কাছ থেকে। বিগত বর্ষায় রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগজ্ঞ, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ এলাকার আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেক সময় ডোবায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ না হওয়ায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-সুরকি বের হয়ে গেছে।
রাস্তাঘাটের বেহালদশার মুলে রয়েছে অতিরিক্ত মালামালবাহী ভারী ট্রাক ও যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্বল ও পুরনো রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এসব রাস্তা গুলি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংস্কারসহ দলীয় বিরোধ, বড় ভাই, ওমুক তমুক ভাই বলয়, লবিং গ্রুপিং নিরসন করাও ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ডকে ভেবে দেখতে হবে বলে মতামত উঠে এসেছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃষকের সার সংকট, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী, দখলবাজি, খাসপুকুর, জমি, বালুঘাটের দখল খাদ্যগুদাম, সাব-রেজিস্টি, ভূমি অফিস, মাদক সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে এর মাসুল কড়াই গন্ডায় দিতে হবে বিএনপিক বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এদিকে রাস্তার বেহালদশার কারণে মালামালের পরিবহন খরচ ও সময় বৃদ্ধি হচ্ছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চলে খুব ধীর গতিতে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। কৃষি ও ব্যবসার ক্ষতির কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে শাকসবজি ও কৃষিপণ্য অন্যান্য শহরে নেওয়ার সময় নষ্ট হয়ে পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। রাস্তার খানাখন্দের কারণে প্রায়শই অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল উল্টে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
রাজশাহীর ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত রাজশাহী ১ এ আসনটি গোদাগাড়ী ও তানোর উপজলা নিয়ে গঠিত। অতীতে এ আসন থেকে হেবিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হক নির্বাচন করে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী, সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী সর্বশেষ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী পালন করে নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ, কালভাট, পদ্মা নদীর ধার বাধানো, নতুন নতুন স্কুল - কলেজ - মাদ্রাসা তৈরী করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবণ নির্মান, গোদাগাড়ী, কাঁকনহাট, তানোর ও মুণ্ডমালাকে পৌরসভায় উন্নতিকরার মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন। গোদাগাড়ী তানোরের মাটি ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের ঘাটি তথা বিএনপির ঘাঁটি। এখানে নির্বাচন করেছেন সাবেক আইজিপি মরহুম ড. এনামুল হকের ভাই প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সামরিক সচিব বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) শরিফ উদ্দিন, চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এবার সামান্য ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের নায়েবে আমিরের কাছে পরাজিত হন মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় নেতা, কর্মীদের কোন কোন প্রোগ্রাম করছেন, প্রশাসনের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন। মসজিদে মসজিদে গিয়ে ইমামতির পাশাপাশি মুসাল্লীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করছেন। অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, বাঁধ, ব্রিজ পরিদর্শন করছেন সংস্কারমূলক কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় প্রকল্প গোদাগাড়ীতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজটি সরজমিনে পর্যবেক্ষনে রেখেছেন নেতা, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রাজশাহী ১ আসনের সংসদ, জামায়াতের নায়েবী আমীর অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান। সম্প্রতি এটি পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, "বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক উদ্যোগ।" স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, "প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল জনবল প্রদানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।" জনস্বার্থে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। কিন্তু সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের সময়ের মত তড়িৎ কাজ পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। গোদাগাড়ী - তানোরের মানুষ ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের মত উন্নয়ন চান। এদিকে পদ্মানদীর ভাঙ্গন, বাঁধের ক্ষতি, রাস্তার বেহালদশা, সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল সংকট ও দাম বৃদ্ধি, বালি উত্তোলন, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি, খাসপুর, বিএনপির দলীয় কোন্দল এসব কিছু নিয়ে সাধারন মানুষের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, যা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে, যার মাসুল কড়াই গন্ডায় দিতে বলে সচেতন মহল মনে করেন। সময় থাকতে বিএনপির হাই কমান্ডাকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছেন গোদাগাড়ী পৌরসভা ও চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মানুষ। তারা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাদের টিনেরচালা, টিন, বাঁশ, খুটি, গরু, খাট, চেয়ার টেবিল, ছাগল হাঁসমুরগিসহ আসবাবপত্র নিয়ে বরেন্দ্রভূমিতে আশ্রায় নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি থেকে আচুয়া তালতলা পর্যন্ত রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অদক্ষতার কারণে মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কারের নামে পচা মাটি ও আবর্জনা রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। ফলে দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচলে কষ্ট হয়। সম্প্রতি এ রাস্তা পরিদর্শন করেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। গর্ভবর্তী নারী, রোগী, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
গোদাগাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গত ১৫ বছর ধরে রাস্তাগুলো এভাবেই পড়ে আছে, দেখার কেউ নেই। ডাইংপাড়া থেকে ১০ টাকার রিকশাভাড়ার জায়গায় ৪০-৫০ টাকা দিতে চাইলেও চালকরা আসতে চান না, পা ধরতে হয়। বালু ব্যবসা ও ভারী যানবাহনের চলাচলের পর থেকেই রাস্তার এই দুরবস্থা শুরু হয়েছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সারাংপুর গোরস্থানসহ বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাদা ও পানি জমে স্লিপ করে পথচারীরা পড়ে যাচ্ছেন এবং প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
উপজেলার ৪ নম্বর রিশিকুল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের সড়কেও সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। রাস্তার পাশে কোনো ড্রেন না থাকায় চব্বিশনগর থেকে মরমড়িয়া যাওয়ার ১০০ ফুট রাস্তায় এই পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে এই অবস্থা চললেও কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা এর কোনো সমাধান করেননি। মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তাও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহেল রানার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের তুলশিপুর গ্রামের একটি রাস্তার এতটাই খারাপ অবস্থা যে গত দুই মাস ধরে সেখানে কোনো ধরনের যানবাহন তো বটেই, মানুষ পায়ে হেঁটেও পার হতে পারছে না। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী রাস্তার মাঝেই ধানের চারা রোপণ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রকৌশলী ও সচিবের দায়িত্বে থাকা সাওয়ার জাহান মুকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে এবং বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে যানবাহন ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও আবার সড়কের ওপরের অংশ ভেঙে বড় বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ধীরগতিতে ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ধীরে ধীরে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কের ভাঙাচোরা অংশে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় গর্ত ও ভাঙা অংশ সহজে বোঝা যায় না। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চলাচল করতে হয়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যও এ পথ দিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে নেওয়া হয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকা বাসীর বলেন, গোপালপুর মোড় থেকে পিরিজপুর সড়কটি এখন চলাচলের জন্য যেন এক মরণফাঁদ।
এ দিকে রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তানোর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বিশেষ করে কাশেম বাজার থেকে মোহনপুর থানার গেট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর মধ্যে মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে সড়কের একটি অংশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তানোর-বায়া সড়কের নির্মাণকাজ চলায় তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যেভাবে পানি জমে তাতে মনে হয় মাছ চাষ করার ডোবা।
এছাড়া সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে। এতে পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। বাজারে ও শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এ সড়কটি দীর্ঘদিন আগে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হলেও পরে আর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত বা সংস্কার করা হয়নি। বিকল্প ভালো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। রাজশাহী ১ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাস্তা, পদ্মা নদীর ভাঙ্গন, বাঁধ সংস্কারের ব্যপারে বলেন, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় ১৬ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভায় এমপির বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে সমহারে কাজ হবে ইনশাল্লাহ। এতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আধা কিলোমিটার রাস্তা হয় সেটা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।
উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। উনারা আশ্বাস দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর এমপি বুলবুলের এলাকায় ৭/৮ কিলোমিটার ও আমাদের চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌরসভার এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মানদীর তীরে বাঁধ নির্মানের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। ইনশাল্লাহ অচিরে হয়ে যাবে। এছাড়া কোন অংশ ফাঁকা না রেখে একদিক বাঁধ নির্মানের পরামার্শ দিয়েছি যে ফাঁকা অংশ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নির্মিত বাঁধের ক্ষতি না হয়।
এলজিইডি, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশালী মোঃ আবুল কালাম মোল্লার (মোবাইল নং ০১৭১৬৩৭৪৫৩২ নম্বরে) যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করাই বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নি। এসব রাস্তাগুলির ব্যপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেন, "এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।" খোঁজ নিয়ে রাস্তা গুলি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন