প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনও প্রায় ১০০ দিন বাকি রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, রোজা রাখার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে শুরু না করে এখন থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা উচিত। ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের রুটিনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হতে পারে। খবর খালিজ টাইমস
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ করে সব অভ্যাস বদলে ফেলার চেষ্টা না করে অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনা ভালো। এতে শরীর ও মনকে নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়।
দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শেখ আয়াজ হাউজে বলেন, "রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।" তিনি যোগ করেন, "এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, প্রতিদিন কুরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে।" তার পরামর্শ হলো, একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার লক্ষ্য না রেখে ছোট অভ্যাস নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।
যারা মাসিক, সাময়িক অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে আগের রমজানে রোজা রাখতে পারেননি, তাদের পরবর্তী রমজানের আগে সম্ভব হলে সেই রোজাগুলো কাজা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ঘুম ও খাবারের রুটিনে পরিবর্তন আনতে হবে। দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জনের পরামর্শ, "এখন থেকেই খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানো এবং গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেয়া উচিত।" তিনি আরও বলেন, "রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, তত ধীরে ধীরে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় পরিবর্তন করে সেহরির উপযোগী রুটিন তৈরি করা যেতে পারে।"
দিনভর নিয়মিত পানি পান এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। যারা প্রতিদিন কয়েক কাপ চা বা কফি পান করেন, তাদেরও ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি সতর্ক করেন যে, রমজানে হঠাৎ চা-কফি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি দেখা দিতে পারে।
খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রমজানের প্রস্তুতিতে প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বপ্না মেরি জন। সেহরিতে ওটস, পূর্ণশস্যের রুটি, ডিম, দই, শিমজাতীয় খাবার ও শাকসবজি রাখা যেতে পারে। ইফতারে শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত শস্যজাতীয় খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় থাকে।
অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ভাজাপোড়া ও ঘন ঘন নাশতা খাওয়ার অভ্যাসও ধীরে ধীরে কমানো উচিত। তবে শরীরের প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দেয়াই লক্ষ্য নয়; বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।
শরীরচর্চা বন্ধ করা উচিত নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে। দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান বলেন, "রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।" তিনি জানান, দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বা তীব্রতা বাড়ানো উচিত নয়।
রমজানে ইফতারের আগে হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য ইফতারের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরের সময়টি তুলনামূলক উপযোগী। আঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ব্যায়ামের রুটিন পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী কিংবা শারীরিক আঘাত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। রোজা অবস্থায় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক উপসর্গ ভেবে অবহেলা করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, রমজানের প্রথম দিন যেন ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের সম্পূর্ণ নতুন রুটিন শুরুর দিন না হয়। তার প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন