প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোণা কলমাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ফ্যামিলি কার্ড তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় দলীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কাজে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে, এমনকি নিজ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হল রুমে ফ্যামিলি কার্ড এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্দেশনামূলক সভায় তিনি কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করেননি, বরং বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের রূপরেখাও তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে (সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার স্টেট) রূপান্তরিত করা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো এই ফ্যামিলি কার্ড। তবে তিনি অতীতে এই কার্যক্রমে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বলেন, পূর্বে টাকার বিনিময়ে বা স্বজনপ্রীতি করে সচ্ছলদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এবার সেই সুযোগ নেই।
তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন, জরিপ শুরু করতে হবে ছাপরা ঘর, গৃহহীন এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের দুয়ার থেকে। কোনোভাবেই সচ্ছল বা পাকা বাড়ির বাসিন্দাদের আগে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতা প্রদান করছে। যদি কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমি নিজে একজন আইনজীবী; কেউ অনিয়ম করলে দলের নাম ভাঙিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বজনপ্রীতি বা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করব।” এ প্রসঙ্গে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগে শ্যামগঞ্জে ছাত্রদলের এক নেতার বহিষ্কার ও মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন এবং জানান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’।
অনুষ্ঠানে সীমান্ত এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (গারো, হাজং) জীবনমান ও সততার প্রশংসা করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত নৃগোষ্ঠীর মানুষের পানীয় জল, শিক্ষা ও বাসস্থানের সংকট দূরীকরণে সরকার বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করেছে। তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি তাদের জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।
এর আগে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দিনের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার কার্যকর সমাধান করবে।
বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর হলো একটি ফুলের বাগান, আর আমি নিজেকে এই বাগানের একজন ‘মালী’ মনে করি। আগামী পাঁচ বছর এই বাগানের পরিচর্যা করতেই আমি সততার সঙ্গে কাজ করে যাব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন