প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত ২০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানের সময় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফের সীমান্তবর্তী পাহাড়, উপকূলীয় এলাকা ও দুর্গম জনপদকে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী চক্রগুলো নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এসব আস্তানায় দেশের বিভিন্ন এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে লোকজনকে এনে আটকে রাখা হয়। পরে সুযোগ বুঝে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের চেষ্টা করা হয়। এই কাজে কখনো বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন, আবার কখনো বিয়ের প্রস্তাবসহ নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত একের পর এক আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে এসব আস্তানা উচ্ছেদ করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে মানবপাচারকারীরা অস্থায়ী আস্তানা তৈরি করে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জড়ো করে রাখে। পরে রাতের আঁধারে এসব লোকজনকে উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়ে গিয়ে নৌযানে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ায় অনেক সময় পাচারকারীরা আস্তানা পরিবর্তন করে নতুন স্থানে কার্যক্রম চালায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফে মানবপাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও দুর্গম পাহাড় ও বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা পাচারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন অভিযানে পাহাড়ি আস্তানা থেকে নারী-শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে দেখা গেছে, পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে পাহাড়ি আস্তানা কিংবা উপকূলীয় এলাকায় আটকে রেখে সুযোগমতো সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানবপাচারকারীদের তৎপরতা বন্ধে শুধু আস্তানা উচ্ছেদ করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত মূলহোতা, দালাল, অর্থের জোগানদাতা এবং সমুদ্রপথে পাচারে ব্যবহৃত নৌযানের মালিকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ ও বিজিবি জানিয়েছে, মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন