প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানে নতুন করে পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা সাত মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খাইবার জেলায় শিশুটির সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনা ঘটার পর চলতি বছর দেশটিতে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের পোলিও নির্মূলবিষয়ক আঞ্চলিক রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এই সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত শিশুটি খাইবার জেলার বারা তহসিলের বাসিন্দা।
পাকিস্তানের পোলিও নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, খাইবার জেলায় শনাক্ত হওয়া তিনটি সংক্রমণের ভাইরাসের সঙ্গে আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের জিনগত মিল রয়েছে। চলতি বছর আফগানিস্তানে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।
নতুন সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পোলিও নির্মূল দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, চারটি প্রদেশ সফর করে এক সপ্তাহের মধ্যে রোগটি নির্মূলে সমন্বিত কৌশল তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তিনি পোলিওর বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেছেন, "পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাঁদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।" তিনি বিশেষ করে নিরাপত্তার অভাব ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে যেসব এলাকায় টিকাদান ব্যাহত হয়েছে, সেসব এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি সারা দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পোলিও আক্রান্ত ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রমকে জোরদার করতে বলেছেন।
বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছর পাকিস্তানে ৯ জনের শরীরে পোলিও শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাতজন এবং সিন্ধু প্রদেশে দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাইবার, তিনজন বান্নু এবং একজন উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাসিন্দা। সিন্ধুতে আক্রান্ত দুজনের একজন করাচি পূর্ব এবং অন্যজন সুজাওয়াল জেলার।
কর্মকর্তারা জানান, খাইবার জেলায় শনাক্ত হওয়া তিনটি সংক্রমণই আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের চলাচলও পাকিস্তানে ভাইরাসটির বিস্তারের অন্যতম কারণ।
সিন্ধু প্রদেশে পরিবেশগত নমুনায় পোলিওভাইরাসের উপস্থিতি আগের তুলনায় কমেছে। পাঞ্জাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালজুড়েও বেলুচিস্তানে কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তানও পোলিওমুক্ত রয়েছে।
কর্মকর্তারা আরো জানান, টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে তাদের কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন