প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক শিক্ষাবর্ষের (দুই সেমিস্টার) জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে এবং ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিন্ডিকেট সদস্যের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং জুনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র্যাগিংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শাস্তিপ্রাপ্ত ৯৯ শিক্ষার্থী ১০টি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
এর মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সাতজন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চারজন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চারজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র্যাগিং, বিভাগে মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ বহাল থাকলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় কেউ কঠোর শাস্তি, কেউ সতর্কতামূলক শাস্তি এবং কারও হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের বিষয়ে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রক্টর আরও বলেন, “শাস্তির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করা নয়, বরং ভুল থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করার সুযোগ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রাখতে চায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শাস্তির মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও কঠোর সতর্কতাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে—র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন।”
এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিভাগের অভিযোগ উপকমিটিতে তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন