প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ আকন্দ, যিনি অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী তাঁকে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি তাঁর সামাজিক এবং পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ আকন্দের পিতা মরহুম ফজলুল হক আকন্দ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে নির্বাচিত গ্রাম সরকারের সদস্য ছিলেন। তিনি চর আমখাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকদের মধ্যে একজন ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।
আবু সাঈদ আকন্দের পরিবারে অন্যান্য সদস্যরাও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর বড় বোন মোছা. হাসনা হেনা ইউনিয়ন মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে সভাপতি পদপ্রার্থী। তাঁর চাচা নূর মোহাম্মদ জাহিদ ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং আরেক চাচা আব্দুল জলিল আজাদ চর আমখাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ভাগিনা কামরুল হাসান জুয়েল যুবদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাদের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ও চাচাদের অনেক রাত বাড়ির বাইরে কাটাতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবু সাঈদ আকন্দ জানান, ২০১৪ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদানের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তাঁকে জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পরিবারের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিশেষ শাখার যাচাই প্রক্রিয়ায় তাঁর ফাইল আটকে যায়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি অবশেষে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
চাকরিজীবনে তিনি নেত্রকোনা, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কর্মজীবনে তাঁকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি কর্মস্থলে তাঁকে দূরবর্তী বা ডাম্পিং পোস্টিংয়ের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সমিতির সদস্যদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবু সাঈদ আকন্দ।
সরকারি অনুষ্ঠানের ছবি ঘিরে বিতর্ক
আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তিনি জানান, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসংক্রান্ত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
একইভাবে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তৎকালীন সংসদ সদস্য জি এম কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তোলা এসব ছবি পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তাঁর মতে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন ও অতিথিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ নয়।
বদলি নিয়েও অভিযোগ
আবু সাঈদ আকন্দের দাবি, অপপ্রচার ও হয়রানির ধারাবাহিকতায় তাঁকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে রংপুরে বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রধান প্রকৌশলী তাঁকে ঢাকা জেলায় বদলি করেন। তবে কর্মস্থল পরিবর্তনের পরও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।
তাঁর ভাষ্য, কোনো নির্বাচিত পেশাজীবী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। প্রমাণের আগেই রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করা অনুচিত।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
আবু সাঈদ আকন্দের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে চর আমখাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম মাস্টারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা পরিবারটির দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ফজলুল হক আকন্দ ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রোখসানা বেগম বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ আকন্দের বাবা ফজলু চাচা স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা ছিলেন। তাঁর বড় বোন হাসনা হেনা আমার সঙ্গে রাজনীতি করেন। আমি বেশ কয়েকবার তাঁদের বাড়িতে গিয়েছি। তাঁরা খুব ভালো মানুষ।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আবু সাঈদ আকন্দ বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং পরিচয় জাহির করাও উচিত নয়। চাকরির পাশাপাশি আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। সমিতির সদস্য প্রকৌশলীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করি। এতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তারা তদন্ত করলেই আমার প্রকৃত পরিচয় বের হয়ে আসবে। আমার আর কিছু বলার নেই।’
পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের প্রক্রিয়ায় জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার দাবি করা এই প্রকৌশলীর প্রশ্ন, নিজের পরিচয়ের প্রমাণ তাঁকে আর কতবার দিতে হবে?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন