প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফা উইন্ডোতে ভিন্ন ভিন্ন দল যখন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, তখন বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা দলগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন একটি ম্যাচে গতকাল (৭ জুন) ডেনমার্কের ওডেন্সে স্বাগতিকরা ইউক্রেনের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ম্যাচটির ফলাফল ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক উদ্বেগজনক ঘটনা নিয়ে।
এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হঠাৎ করেই বুক চেপে ধরে মাঠে লুটিয়ে পড়েন এরিকসেন। মাঠে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত সাড়া দেন এবং তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ড্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এরিকসেন সচেতন অবস্থায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'তিনি নিজেই হেঁটে মাঠ ছেড়েছেন। অল্প সময়ের জন্য অচেতন ছিলেন, তবে খুব দ্রুত তিনি জ্ঞান ফিরে পান। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। এখন হাসপাতালে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যাতে ঘটনার কারণ নির্ণয় করা যায়।'
ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করে, কারণ পাঁচ বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এরিকসেন। ২০২১ সালের ১২ জুন ইউরোর গ্রুপ পর্বে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ডেনমার্কের উদ্বোধনী ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। তার সতীর্থ সিমন কায়েরের দ্রুত পদক্ষেপ এবং চিকিৎসকদের তৎপরতাই তার জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেই সময় দলের চিকিৎসক মরটেন বোসেন বলেছিলেন, 'প্রথমে তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং তার নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমরা সিপিআর শুরু করি। সৌভাগ্যক্রমে তিনি জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পেরেছিলেন।'
পরে জানা যায়, এরিকসেনের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং ডিফিব্রিলেটরের শকের মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কয়েক দিন পর তার শরীরে একটি ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর (আইসিডি) বসানো হয়। পেসমেকারের মতো এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি বিপজ্জনক হৃদস্পন্দনের সমস্যা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; ফলে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকতে হয়।
এই ঘটনার পর ইতালির নিয়ম অনুযায়ী ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার অনুমতি না থাকায় ইন্টার মিলানের সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রিমিয়ার লিগে এমন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে মাঠে ফেরেন তিনি।
এরপর একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে, যেখানে তিনি তিন মৌসুম খেলেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি খেলছেন ভিএফএল ভলসবুর্গের হয়ে। এর মধ্যেই তিনি অংশ নিয়েছিলেন ২০২২ এর বিশ্বকাপেও, যা ফুটবলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন