প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহে ‘সার কার্ড’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কৃষি বিভাগ, যা জমিতে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা জমির পরিমাণ ও ফসল অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত মাত্রায় সার গ্রহণ করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের মধ্যে বেশি সার দেওয়ার ভুল ধারণা এবং প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি সার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অপচয় রোধ এবং সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সার কার্ডে কৃষকের ছবি, নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জমির পরিমাণ এবং আবাদকৃত ফসলের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমিতে ধান, গম বা পেঁয়াজ চাষের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির সুনির্দিষ্ট চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। সার উত্তোলনের সময় কার্ডে পরিমাণ ও তারিখ লেখা হবে, যাতে কেউ নির্ধারিত মাত্রার বেশি সার নিতে না পারে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন এবং কোথাও কোথাও কার্ড বিতরণও শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
শৈলকুপার কৃষক আব্দুল রহিম ও বসির আহমেদ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সার দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত মাত্রায় সার পেলে উৎপাদন খরচ কমবে, একই সঙ্গে জমির স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে। ত্রিবেণী ইউনিয়নের সার ডিলার জাফর মোল্লা বলেছেন, এর ফলে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ডিলারদের জন্য বিতরণ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, সার বিতরণে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আনতে এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন