প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেয়—এ ধরনের দাবি অনেকেই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় থেকে করে আসছেন।
আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে পায়ের পেছনের অংশে মাড়িয়ে দেওয়ার পরও লিওনেল মেসি কোনো কার্ড না দেখায় এবারের বিশ্বকাপেও সেই দাবি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সেই দাবি যেন আরো জোরালো হয়েছে।
১১ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে স্প্যানিশ ভাষায় ইনফান্তিনোকে বলতে শোনা যায়, ‘আজ (কেপ ভার্ডের বিপক্ষে) আর্জেন্টিনার খেলা দেখে আমার টেনশন হচ্ছিল ও চাপ অনুভব করছিলাম।’
এরপর ইনফান্তিনো দ্রুতই বুঝতে পারেন, তিনি কী বলে ফেলেছেন! সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নিয়ে সুর বদল করেন, ‘আমি তো নিরপেক্ষ। (শুধু আর্জেন্টিনা নয়), সব দলের ক্ষেত্রেই আমার একই রকম অনুভূতি হয়।’
মায়ামিতে আজ কেপ ভার্ডেকে হারাতে আর্জেন্টিনাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে চমক জাগানো দলটি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকায় খেলাটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শেষ হাসি হাসে আর্জেন্টিনা; জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোয়।
অনেকে ভাবছেন, মেসি-মার্তিনেজদের জিততে খুব কষ্ট করতে হয়েছে দেখেই হয়তো ইনফান্তিনো এ ধরনের কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কি সত্যিকার ভিডিও নাকি ভুয়া?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ফ্যক্ট চেক (তথ্য যাচাই) করে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিও ক্লিপটিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, ইনফান্তিনো যে সাতটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন, তার মধ্যে স্প্যানিশ একটি।
তবে এআই বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে বা ইনফান্তিনোর বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা আংশিক। পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
তা ছাড়া ভিডিওতে স্টেডিয়ামের বাইরে ইনফান্তিনো শুধু একজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, আশে পাশে অন্য কেউ ছিলেন না। তাই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টেডিয়াম অ্যাস্ট্রোও ফ্যাক্ট চেক করেছে। তাদের দাবি, ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে, আংশিক সম্পাদিত বা বিকৃত অথবা সম্পূর্ণ ভুয়াও হতে পারে।
সুতরাং কেউ যদি বলেন, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আর্জেন্টিনার সমর্থক বলে ধরা পড়ার পর কথা ঘুরিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন