প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাচীন মিশরের রহস্যময় মমি, রানি নেফারতিতি ও তুতেনখামুনের ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঐতিহ্য উৎসব-২০২৬’।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী উৎসবের উদ্বোধন করেন।
এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘অতীতকে দেখা, ইতিহাসকে যাপন করা এবং সংস্কৃতিকে আস্বাদন করা।’ সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে শিক্ষার্থীসহ সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
উৎসবে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস ও বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রদর্শন করা হয় প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিভিন্ন দিক, রানি নেফারতিতি ও তুতেনখামুনের মমির প্রতিকৃতি এবং মিশরীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন। অন্যদিকে তুলে ধরা হয় বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, মধ্যযুগীয় মসজিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ও ঐতিহ্যের নানা উপাদান। এতে পুরো উৎসব প্রাঙ্গণটি ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে উৎসবে অংশ নেন। তাদের বৈচিত্র্যময় সাজসজ্জা পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও বর্ণিল ও উৎসবমুখর।
উৎসবে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরার প্রত্যয়ে এ আয়োজন সত্যিই চমৎকার। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এ উদ্যোগ ইতিহাসকে জানার বিষয়টিকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলবে।”
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিদা আক্তার বলেন, “এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা অতীতকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রত্নতত্ত্বের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
আয়োজক কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, “শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এ আয়োজন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, “ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভুলে কোনো জাতি সামনের দিকে এগোতে পারে না। আমাদের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস ও দেশীয় সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা ও বাহারি পোশাকের উপস্থিতি সত্যিই প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজস্ব শেকড়কে চেনার এ প্রয়াস শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন