প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আবারও ক্ষমতায় আসবে এবং ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) পরাজিত করবে, এমনটাই দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিষয়টি ভালোভাবে জানেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি করেন। রাহুল গান্ধী জানান, এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই তার কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতা হারালে কংগ্রেসই দেশের শাসনভার গ্রহণ করবে। তিনি মন্তব্য করেন, যদি মোদি কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার এই রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারেন, তবে দলের নেতাদেরও সেই আত্মবিশ্বাস রাখা উচিত।
বৈঠকে, রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোট ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিজেপি ভোটার তালিকা ও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা পরিবর্তন এনে নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিলেন, তা শুরুতে দলের প্রবীণ নেতারা বিশ্বাস না করলেও বর্তমানে কমিশনের অভ্যন্তরীণ নানা ঘটনা সামনে আসায় সবাই তার অভিযোগের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তার তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ছিল একটি বড় আঘাত।
কংগ্রেসের এই নীতি নির্ধারণী বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন আরও তীব্র করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার পাশাপাশি বাদ পড়া প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া ভোটার তালিকার যাবতীয় পরিবর্তনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ, বাদ পড়া ভোটারদের আপিলের সুযোগ প্রদান এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সঠিক সময়ে তালিকা সরবরাহের পাশাপাশি সব অনিয়মের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে রাজপথে নামানোর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে, কেবল বিবৃতি বা সংসদীয় প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সড়ক, সংসদ এবং আদালত—সবখানেই একযোগে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই গড়ে তুলতে হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের বড় সমাবেশ করার প্রস্তাবও দিতে পারে কংগ্রেস।
রাহুল দলের নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, শুধু প্রতিবাদ করলে হবে না, আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তার কথায়, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই সংসদ, আদালত এবং রাজপথে চালিয়ে যেতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন